সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

ফণীর তান্ডব

ঘূর্ণিঝড় ফণী উড়িষ্যা, পশ্চিম বাংলাসহ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গত কয়েক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এড়িয়ে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিম বাংলা উপকূলে আঘাত হেনেছে। ফণী নামের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ফণা তুলে যেভাবে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছিল তাতে আশঙ্কা দেখা দেয় জনমনে। প্রবল প্রতাপের ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে গতকাল শুক্রবার। পাকা বোরো ধানের ক্ষতিও হয়েছে কমবেশি। তবে সরাসরি আঘাত না হানায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি আঘাত হানলে তা বোরো ফসলের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করত। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সৃষ্টি করত হুমকি। ফণী আঘাত হানতে পারে- এ আশঙ্কায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সারা দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলায় খোলা হয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। ১৯৭৬ সালের পর এত শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল। গত ৪৩ বছরে বঙ্গোপসাগরে যতগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে তার কোনোটি কখনই এত শক্তিশালী আকার ধারণ করেনি। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঝড় বৈশ্বিক উষ্ণতা পরিবর্তনের ফল। বঙ্গোপসাগরের বায়ুম-লে পরিবর্তনের কারণে এ ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও এর প্রতিক্রিয়ায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বিপুল। বিশেষ করে চলতি বছর বোরোর যে বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছিল তার অনেকখানি যে ব্যাহত হবে তা সহজে অনুমেয়। তার পরও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হওয়ায় আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। জলবায়ুর অশুভ পরিবর্তনে যেহেতু ফণীর মতো ভয়াবহ আকারের ঘূর্ণিঝড় থাবা বিস্তার করছে সেহেতু বিশ্ববাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ সৃষ্টি করেছে। আমরা আশা করব এ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ কীভাবে জোরদার করা যায় সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD