সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

বরিশালে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি

বরিশালে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি

আসছে ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটের জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে বরিশালের পশু বিক্রেতারা। নগরীতে দুইটিসহ জেলার দশ উপজেলায় ১৬টি স্থায়ী ও ৩০টি অস্থায়ী পশুর হাটে গত বছর কোরবানীর পশু বিক্রি হয়েছে। এবারও ওইসব অস্থায়ী পশু বিক্রেতারা কোরবানীকে ঘিরে হাট বসানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন। সূত্রমতে, দক্ষিণাঞ্চলে কোরবানির পশুর (গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া) চাহিদা বিগত বছরগুলোতে স্থানীয়ভাবে মেটানো যায়নি। এবারও একই অবস্থা। বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিভাগের ছয় জেলায় চাহিদার অর্ধেক পশুর জোগান স্থায়ীভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। অবশিষ্ট চাহিদা মেটাতে সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষিরা, মেহেরপুর এলাকা থেকে পশু আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এ অঞ্চলে উদ্যোক্তার অভাবে গরুর খামার বাড়ছে না। যার প্রভাব পরছে প্রতিবছর কোরবানির পশু চাহিদার ওপর। চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এবারও পশুর দাম অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় দেড় লাখ। তার বিপরীতে স্থানীয় খামারে পশু আছে ৮৭ হাজার ১৫৩টি। অর্থাৎ প্রায় ৬৩ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে। বিভাগে তালিকাভূক্ত পশুর খামার রয়েছে ১৫ হাজার ১৪৪টি। ঈদ-উল আজহায় পশু চাহিদার এ পরিসংখ্যানের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের কোরবানীর পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের হিসেব অনুযায়ী বিভাগের ছয় জেলায় প্রায় দেড় লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। তারা আরও জানান, আগের বছর কোরবানি হওয়ার সংখ্যা তিন শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রতিবছরের ঈদ-উল আজহায় পশুর চাহিদা নির্ধারন করা হয়। অতিরিক্ত পশুর চাহিদা বাদ দিলে এবারের চাহিদা দেড় লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এবার চাহিদার তুলনায় স্থানীয়ভাবে পশুর সংখ্যা কম রয়েছে। বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে গরু পাঠানো বন্ধ এবং মাংসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের তরুণ ব্যবসায়ীরা পশু খামারের ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। তবে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানোর পর্যায়ে যেতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এ অঞ্চলে লোকজনদের পশুর খামার ব্যবসায় অনাগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখানে নদী-সাগর বেষ্টিত হওয়ায় পশু খামার ব্যবসার মতো প্রতিকূল পরিবেশ আগে ছিলোনা। যে কারণে বংশানুক্রমে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী পশুর খাবার ব্যবসায় আগ্রহী হয়নি। এ অঞ্চলে চাহিদার বড় সরবরাহ আসে চরাঞ্চলে কৃষকের পালিত পশু থেকে। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত পশুর হাট বরিশালের গৌরনদীর কসবা গো-হাট, বানারীপাড়ার গুয়াচিত্তা, বাকেরগঞ্জের বোয়ালী, সদর উপজেলার কাগাসুরা গরুর হাটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সীমান্ত থেকে ভারতীয় গরু প্রবেশে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দেশীয় গরু বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের পশুর ওপর তাদের কোরবানীর হাট নির্ভর করবে। এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কানাই লাল জানান, ঈদ-উল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে অতিসম্প্রতি তিনি ঢাকায় মন্ত্রাণালয়ের একটি সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে বরিশাল বিভাগের সার্বিক অবস্থা উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই সভায় জানানো হয়েছে, গোটা দেশে কোরবানির চাহিদার থেকে বেশি পশু রয়েছে। তাই অহেতুক পশুর দাম বাড়ানো কিংবা হতাশ হবার কিছু নেই। ৪৮টি হাট বসানোর প্রস্তুতি ॥ ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে এবার বরিশালে পশুর ৫১টি হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। পশু কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসায় ইতোমধ্যে হাটগুলোর ব্যবসায়ীরা পুরোদমে তোড়জোড় শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল নগরীতে দুইটি, জেলায় ১৬টি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় একটি, বাকেরগঞ্জে তিনটি, বানারীপাড়ায় দুটি, গৌরনদীতে দুটি, মুলাদীতে ছয়টি, হিজলায় একটি ও মেহেন্দীগঞ্জে একটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর বাইরে গত বছর সদর উপজেলায় আটটি, মুলাদীতে পাঁচটি, গৌরনদীতে দুটি, আগৈলঝাড়ায় তিনটি, বাবুগঞ্জে পাঁচটি, বাকেরগঞ্জে তিনটি ও উজিরপুর উপজেলায় চারটি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিলো। এবারও স্থায়ী ও অস্থায়ী ওইসব হাটে কোরবানির পশু বিক্রি করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হাট-বাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাঘিয়ায় ও পোর্টরোডে দুটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর বাইরে গত বছর নগরীর রূপাতলী মোল্লাবাড়ির মাদ্রাসা মাঠ, কালিজিরা বাজার ও সিঅ্যান্ডবি রোড সেচ ভবনের পাশে তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছিলো। এবছর এখনও কোন অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD