বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

অবরুদ্ধ জেলেরা

সাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে সরকার ঘোষিত ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে উপকূলীয় হাজার হাজার মৎস্য শিকারি ট্রলার নিয়ে ছুটে গিয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। কিন্তু গত ২৩ জুলাই রাতে জেলেরা সাগরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন কাটতে না কাটতেই বুধবার বিকেল থেকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হাজারো জেলে আবার ফিরে এসেছে তীরে। জেলেরা জানায়, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা ট্রলার নিয়ে মৎস্য বন্দর আলীপুর, মহিপুরের শিববাড়িয়া নদীতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। ইলিশ শিকার মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের কবলে পড়ায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অভাব-অনটন নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে মাছ শিকার বন্ধ হওয়ায় মৎস্য শ্রমিক, মৎস্য ব্যবসায়ীদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলার মালিকরা লোকসানের শঙ্কায় আছে। এদিকে রবিবার থেকে অমাবস্যার বাড়তি জোয়ার শুরু হবে। এ সময় সাগর আরো উত্তাল হয়ে উঠবে।গত শুক্রবার বিকেলে মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে সারি সারি মাছ ধরা ট্রলার ধেয়ে আসছে মৎস্য বন্দর এলাকার পোতাশ্রয় শিববাড়িয়া নদীতে। সদ্য সমুদ্র থেকে নোঙর করা এফ বি ফয়সাল ট্রলারের মাঝি মো. শাহ জালাল কালের কণ্ঠকে জানান, মাত্র ১০ মণ মাছ নিয়ে তিনি তীরে ফিরে এসেছেন। একটি ট্রলারে কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ মণ ইলিশ ধারণ করা সম্ভব। কিন্তু সাগর হঠাৎ উত্তাল হওয়ায় মাছ শিকার করা যাচ্ছে না।মহিপুর মৎস্য বন্দরে জেলেপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, মহিপুর বেড়িবাঁধের বাইরের খাসজমিতে নির্মাণ করা ঘরের সামনে চুপ করে বসে আছেন মো. ইসলাম মাঝি (৭০)। স্ত্রী জয়নব বিবি (৬০) ঘরের ভেতর থেকেই আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবেন, তা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বাগিবতণ্ডা করছেন।ইসলাম মাঝি পরে জানান, অবরোধ শেষে মাছ ধরতে তিন দিন আগে মহিপুরের ট্রলার মালিক চান্দু মিয়ার ট্রলারে করে সাগরে গিয়েছিলেন ভাগের শ্রমিক হিসেবে। দুই দিন মাছ ধরে বিক্রি করে ট্রলারের সব জেলের মধ্যে টাকা ভাগ করে প্রায় দেড় হাজার টাকা পেয়েছেন। মুদি দোকানের টাকা দিয়েই সব টাকা শেষ।ইসলাম মাঝি জানান, একটি ট্রলারে ১৩-১৪ বা তারও বেশি জেলে থাকে। এর মধ্যে যারা ট্রলার মালিকের বেতনভুক্ত জেলে, তারা মাস শেষে বেতন হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পায়। কিন্তু এখন সাগরে ঘন ঘন দুর্যোগ এবং অবরোধ থাকায় ট্রলার মালিকরা আর বেতনভুক্ত শ্রমিক বা জেলে নেয় না। তাই মাছ শিকার করে বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তার একাংশ ট্রলারের জেলেরা পায়, বাকিটা ট্রলার মালিক পায়।ইসলাম মাঝির মতো কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি, কাউয়ারচর গ্রাম, লালুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, মহিপুরের নিজামপুর, কমরপুর, সুধীরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের জেলেরা ‘ভাগের শ্রমিক’ হিসেবে কমপক্ষে আট হাজার জেলে নিয়োজিত আছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD