মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ

ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ

উপকূলীয় জনপদের বরগুনার বেতাগী বিষখালি নদীতে জেলেদের জালে ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ। জেলেদের জালে বিপুল পরিমান রূপালী ইলিশ ধরা পরায় তাঁদের মূখে হাসি ফুটেছে। জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলেরা ইলিশ আহরণের কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলেরা ইলিশ শিকারে বিষখালী নদীতে রাত-দিন কাজ করছেন। বঙ্গোপসাগরে বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পরায় উপকূলীয় জেলা বরগুনার বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী জেলে এবং মৎস ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে ব্যস্ততায়। অপরদিকে ইলিশ বেশি পাওয়ায় দামও কমে আসছে, এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মনে।
বেতাগী উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর সরকার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ সময়ে গভীর সাগর থেকে নদীর মোহনায় এসে ডিম দেয় মা ইলিশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের নিষেধাজ্ঞার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। এ বছর বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। যদিও বিষখালী নদীতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল না। তবে বেতাগী থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব বেশি না হওয়ায় এ এলাকার জেলেরাও কিছুটা হতাশ ও আতঙ্ক ছিল।
উপজেলার চরখালী এলাকার জেলে ফোরকান মিয়া জানান,‘ বর্তমানে নদীতে জাল ফেললেই ইলিশ ওঠে, সবাই মিলে নদী পেরিয়ে সাগরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়া যায়।’ নদী ও সাগরের মোহনায় গেলে একেকটি বড় জেলে ট্রলারে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ২শ’ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। জেলেরা পাইকারী প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। বাজারগুলোতে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, ২ টি মাছে ১ কেজি ওজন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, ৩টির ওজন ১ কেজি হলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ঝাটকা ৪/৫ টিতে ১ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে ১ কেজির বেশি ১ কেজি ২০০ গ্রাম কিংবা এরাও কিছু বেশি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । ঝোপখালী’র জেলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘ নদীতে এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে খুব অল্প দিনেই দাদনের (ঋণ) টাকা পরিশোধ করা যাবে এবং জেলেদের সংসারের অভাব দূর হবে।’ জেলে কমল দাস বলেন,‘ ইলিশ হঠাৎ করে কমে গেলে জেলেদের দুঃখ-দুর্দশার শেষ থাকবে না। কারণ এ এলাকার জেলেদের বিকল্প কোনো আয়ের সুযোগ নেই। ’
বেতাগী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আল-রাজিব বলেন, ‘ নিষেধাজ্ঞার থাকাকালীন সময়ে বেতাগীর জেলেরা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থেকেছে। এজন্য নদীতে বেশি মাছ উৎপাদন হয়েছে। বেতাগী উপজেলা মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ দপ্তর থেকে ‘ইলিশ রক্ষায় মডেল হিসেবে’ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয়ভাবে পুরস্কার পেয়েছে। ’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD