সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

চুরির ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় খুন হন উজ্জল

চুরির ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় খুন হন উজ্জল

রিপোর্ট আজকের বরিশাল:
পাওনা ৩ শত টাকা না পেয়ে চুরির খবর ঠিকাদারকে জানিয়ে দেয়ায় খুন হন পিকআপ চালক মোঃ উজ্জল (২১) খুন হন। যার মরদেহ গত ২আগষ্ট বরিশাল নগরের কাশিপুরস্থ নবনির্মানাধীন ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার কাঁশবনের ভেতরে বালুচাপ অবস্থায় উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উজ্জল হত্যাকান্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো নির্মানাধীন ট্রাক স্ট্যান্ডের সাব কন্ট্রাক্টর ও উজ্জল হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ফুলঝূড়ি এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সোহাগ। তার দুই সহযোগী মিনি ট্রাকের হেলপাড় ও বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কাজীরহাট এলাকার আনোয়রের ছেলে রমজান এবং নির্মান শ্রমিক মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার ইদ্রিস ফকিরের ছেলে রবিউল। রোববার (০৪ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দফতরের পঞ্চম তলার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাব উদ্দীন খান জানান, গত ১ আগষ্ট রাতে থেকে নিঁখোজ হন খুন হওয়া পিকআপ চালক উজ্জল। এরপর স্বজনরা তাকে খুজতে থাকে। যার একপর্যায়ে ২আগষ্ট সন্ধ্যায় নিহতের মা পারভীন বেগম নগরের কাশিপুরস্থ নবনির্মানাধীন ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার কাঁশবনের ভেতরে উজ্জলের একপাটি জুতা দেখতে পেয়ে মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আলগা বালুর স্তুপ দেখে তা খুরে উজ্জলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই রাতেই হত্যা মামলা দায়েরের পাশাপাশি থানা পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে তারা জানতে পারে নবিনির্মত ট্রাক স্ট্যান্ডের সাব কন্ট্রাক্টর মোঃ এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে। যাকে নগরের আলাকান্দা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতারের পরেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হয়, পাশাপাশি নগরের ধানগবেষনা রোড এলাকায় সোহাগের এলাকা থেকে নিহত উজ্জলের ভাড়ায় চালিত পিকআপটি উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে কিলিং মিশনের সাথে থাকা অপর দুই আসামী রবিউল ও রমজানকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যানুযায়ী নিহত উজ্জল ও গ্রেফতার হওয়া আসামীরা একসাথে চলাফেররা করতো। গ্রেফতারকৃতরা নির্মানাধীন ট্রাকস্ট্যান্ডের কাজের সাইড থেকে বিভিন্ন সময় রড, সিমেন্ট, খোয়াসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে উজ্জলের পিকআপ ব্যবহার করে বাহির বিক্রি করতো। সর্বোশেষ সোহাগের কাছে ট্রাক ভাড়া বাবদ ৩ শত টাকা পেতো উজ্জল। যা না দেয়ায় উজ্জল তাদের চুরির বিষয়টি মূল ঠিকাদার স্বপনকে দিয়ে দেয়। এরপর মূল ঠিকাদার স্বপন সাব কন্ট্রাক্টর সোহাগকে তার পাওনা ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আটকে দেয়। এরপর থেকেই মূলত সোহাগ পিকআপ চালক উজ্জলের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং উজ্জলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২ বার কোমল পানীয়’র সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টাও করে। তিনি জানান, সর্বোশেষ ১ আগষ্ট উজ্জল ভান্ডারিয়া থেকে ট্রিপ শেষ করে গ্রেফতারকৃত সোহাগ ও রবিউলের ফোন পেয়ে ট্রাক টার্মিনালের ভেতরে নির্মানাধীন ভবেনর ছাদে ওঠে। সেখানেই গ্রেফতার হওয়া আসামীরা পরষ্পর যোগসাজেশে সোহাকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গলাকেটে জবাই করে হত্যা করে। পরে সোহাগের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী উজ্জলের মরদেহ কাথা দিয়ে পেচিয়ে ভবনের পাশের কাশবনে গর্ত করে বালিচাপা দেয়া হয়। কমিশনার শাহাব উদ্দীন খান বলেন, চুরির তথ্য প্রকাশ ও পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়েই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা। তারা এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছুরি, পোশাক, বেলচা, কোদালসহ যা যা ব্যবহার করেছে সে আলামত আমরা জব্দ করতে পেরেছি। সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ, মোঃ খায়রুল আলম, সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আব্দুল হালিম, নাছির উদ্দিন মল্লিকসহ উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD