রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পটুয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাণিজ্যের অভিযোগ

পটুয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাণিজ্যের অভিযোগ

পটুয়াখালী জেলার ৮টি উপজেলায় নতুন নকল নবিশ নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য। পুরাতন নকল নবিশরা অভিযোগ করে ১৫ বছর ধরে নকল নবিশের কাজ করে আসলেও ২০১৮ সালে নতুন নকল নবিশ নিয়োগের পরে আমাদেরকে সঠিক সময় দলিল এবং ভলিউম দেওয়া হয়নি এবং আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে ভয়ভীতি দেখায়, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ নতুন নকল নবিশদেরকে নিয়ে কাজ করাচ্ছে যা আইনের পরিপন্থী। পুরাতন নকল নবিশরা অভিযোগ করেন,পটুয়াখালী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ভুয়া স্মারকের মাধ্যমে ৮০-৮৫ জনের মত নকল নবিশ নিয়োগের মাধ্যমে কাজে যোগদান করান। বিশ্বস্থ সূএে আরো জানাযায় যে , জাহিদুল ও জেলা রেজিষ্টারের অফিস সহকারী নতুন নকল নবিশদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নিয়োগ বাবদ প্রায় ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ)টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। জেলা রেজিষ্টারের অফিস সহকারী দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে একই পদে চাকুরি করার সুবাদে এবং স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে কাউকে পরোয়া করে না। সংবাদকর্মিদের মাধ্যমে পুরাতন নকল নবিশগন জেলা রেজিস্ট্রার কাছে স্মারক নম্বর দেখতে চাহিলে তিনি আমাদেরকে স্মারক নম্বর না দেখিয়ে আমাদের চলে যেতে বলেন। তিনি আমাদের বলেন আমি সদর সাব- রেজিস্ট্রার কে নিয়ে সব স্মারক যাচাই বাচাই করে দেখব। যাচাই বাচাই করে ০৭ (সাত) জন নকল নবীসের স্মারক সঠিক পেয়েছিল বলে জানাযায়। নকল নবীসের স্মারক সঠিক না পেয়ে বাকী সকল অবৈধ নকল নবিশদের বালাম বহি বাতিল করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে রেজিষ্টারকে ভুল বুঝিয়ে টাকা দিয়ে জাহিদুল ইসলাম ও জেলা রেজিষ্টারের অফিস সহকারী ১৮ সালের স্মারক দিয়ে ১৯ সালে নতুন সকল নকল নবিশদের পুনরায় কাজে যোগদান করিয়াছেন। আমরা জেলা রেজিস্ট্রার এর কাছে জানতে চাহিলে তিনি আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেন না জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী ও পিয়ন জাহিদের কথামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী ও জাহিদ সরকারী লোকের বদলী সহ সর্ব প্রকার নিয়োগ বাণিজ্য মেতে আছে। জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী ও জাহিদের নামে বে-নামে অনেক সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। বর্তমানে পটুয়াখালী সদর সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে এক আতস্ক এই জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী ও জাহিদ। পুরাতন নকল নবিশগন আরো জানান,আমরা প্রায় ৫৩ জন নকল নবিশ দীর্ঘ অনেক বছর যাবৎ এখানে নকল নবিশ হিসাবে কর্মরত আছি। আমাদের ভবন টি পুরানো এবং ঝুকিপূর্ন হওয়ায় আমাদের এখানে কাজ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু আমরা নিজেদের জীবনের ঝুকি নিয়ে বন সই দিয়ে প্রতি নিয়ত মৃত্যু হতে পাড়ে জেনেও ছেলে,মেয়ে,মা ও বাবার মুখে দুমুঠো ভাত ও একটু হাসি দেখার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এত ত্যাগ করার পরও জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক জাহিদ এর কথা মত গত ১০ নভেম্বার সকালে দেখতে পাই পটুয়াখালী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনে নতুন প্রায় ৩৬জন নকল নবিশ কাজ করতে বসেছেন। আমরা পুরাতন নকল নবিশরা তাদের কাছে কাজের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা নিয়োগ প্রাপ্ত। পুরাতন লকল নবিশরা বলেন আমাদের হাতে পেইন্ডিং যে কাজ আছে তা সঠিক ভাবে কাজ করলে আমাদের ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। তার পরেও আমাদের বসে থাকতে হবে কিন্তু এসব জেনেও ৩৬ জন নতুন নকল নবিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে । তাই আমরা পুরাতন নকল নবিশরা অনিদৃষ্ট কালের জন্য কলম বিরতি ঘোষনা করেছিলাম। আমাদের বক্তব্যে অবৈধ নতুন নকল নবিশ নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং তার তীব্রনিন্দা জানিয়েছিলাম এবং কলম বিরতি ঘোষনা করেছিলাম। বাতিলকৃত কিছু দলিল নং ২৪৯০, ২৪৯২, ২৫১৩, ২৫১২, ২৫০৪, ২৫০০, ২৫১০, ২৪৯৯, ২৪৯৭, ২৪৯৬, ২৪৯৫, ২৪৯৮, ২৫১৬, ২৫১৭, ২৫১৮, ২৫২১,ভলিউম নং ১২২, ১২৪, ১৪৪, ১৪৩,১৩৬,১৩২,১৪১, ১৩১, ১২৯, ১২৮, ১২৭, ১৩০, ১৪৮, ১৪৫,১৪৯,১২৮। পটুয়াখালী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অবৈধ নতুন নকল নবিশদের নিয়োগ ভুয়া স্মারকের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় পুরাতন নকল নবিশসরা ঢাকা হাই কোর্ট ডিভিশনে তাদের অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবীতে রিট পিটিশন আপিল করেন যার নাম্বার ১৫৬৬০/১৮ইং ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD