বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

সোনার বাংলা বির্নিমাণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে হবে- এমপি শাহে আলম

সোনার বাংলা বির্নিমাণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে হবে- এমপি শাহে আলম

বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে তাঁর পাশে থেকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বির্নিমাণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে হবে উল্লেখ করেছেন, বরিশাল-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্ণীতি বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দুর্নীতি বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এমপি শাহে আলম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনারা ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে ছিলেন। আপনারা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছেন। অতীতের কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারেন। সেখানে যারা তদন্তকারী কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা এসে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবেন। এমপি শাহে আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় যারা মুক্তিযোদ্ধাদের তিন বেলা খাবার ও কাপড়-চোপর দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন, আমারা তাদেরকেও জানি। আর যারা আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান কেটে পাকবাহিনীর সাথে তাল মিলিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছেন, তাদেরকেও চিনি। এক্ষেত্রে এমপি শাহে আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় যারা বানারীপাড়া উপজেলা ও পাশর্^বর্তী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম করে বোরকা পড়ে ডাকাতি করে বন্দর বাজার লুট ও ব্রাক্ষ্মনকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী নির্যাতন এবং বিত্তবানদের বাড়ি থেকে মালামাল লুটপাট করে মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করে বিত্তবান হয়েছেন অচিরেই তাদের তালিকা তৈরী করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ সময় উপস্থিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এমপিকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কলঙ্কিত ও ডাকাতির সাথে জড়িত যোদ্ধাদের সনদ বাতিলের দাবী জানান। বিশেষ অতিথি বক্তৃতায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডের দায়ীত্ব পালন করবেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। তার নির্দেশ না নিয়েই মুক্তিযুদ্ধকালিন সময় ডাকাতির অভিযোগে গনোপিটুনী খাওয়া কাজী হায়দার আলী তার ব্যক্তি স্বার্থ চরিত্রার্থ করার জন্য মুক্তিুযুদ্ধকালিন বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেনুকে সভাপতি দেখিয়ে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে কিভাবে ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে মতবিনিময় সভার রেজুলেশন করলেন। এছাড়াও ওই রেজুলেশনে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংস্কারপন্থি বিএনপি নেতা ও সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা মুক্তিুযুদ্ধকালিন বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেনু ও সাবেক সহকারী কমান্ডার মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান সহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা কাজী হায়দার আলীর ওই রেজুলেশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে উল্লেখ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক সহ দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা কাজী হায়দার আলীকে তিরস্কার করেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এছাড়াও আলোচক ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, মুক্তিযুদ্ধকালীণ বেজ কমান্ডার বেনী লাল দাস গুপ্ত বেণু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তরুনেন্দ্র নারায়ণ ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সরদার, মো. শাহ্ আলম, জগন্নাথ, মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক ওয়াহেদুজ্জামান দুলাল, পৌর আ’লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু, প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমন প্রমূখ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD