বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

সিডিসির গ্রাহকের কোটি টাকা আটকে রাখার অভিযোগ

সিডিসির গ্রাহকের কোটি টাকা আটকে রাখার অভিযোগ

রিপোর্ট :

নিজ সঞ্চিত টাকা আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরন প্রকল্প (সিডিসির) গ্রাহক মোঃ সোহেল হাওলাদার। কোন অফিসে ঘুরেও টাকা আদায় হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বরং অফিস খুজতে গিয়ে সর্বশেষ জানতে পারেন তাও উধাও। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এনেক্স ভবনের ২য় তলায় অবস্থিত ছিল সিডিসির অফিস। কিন্তু সেখানে গিয়েও অফিস খুজে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ভুক্তভোগী রুপাতলীর বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। তিনি বরিশাল বাণীকে বলেন, নিজেদের আয় থেকে কিছু অর্থ সঞ্চায়ের জন্য সিডিসি প্রকল্পে নাম লেখাই। ২০১০ সালে সিডিসি দারিদ্র উন্নয়নে কিছু ভূমিকা রাখলেও পরিশেষে কিছু না জানিয়ে ৩০টি ওয়ার্ডের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয় এই সংস্থাটি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসিক একটা অর্থ সঞ্চিত করনের মাধ্যমে তৈরি হয় এ প্রকল্প। এ বিষয় নিয়ে আমি এনেক্স ভবনে খোজ নিতে গেলে তারা বলেন, ২য় তলা থেকে তিন তলা, তারপর চার তলা । অবশেষে গিয়ে দেখি সেখানে কোথায় অফিস নেই। পরবর্তীতে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সিডিসির কোন অফিস এখানে নেই। তার কোন কার্যক্রমও নেই । তা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। নগরী জুড়ে এই সিডিসি প্রকল্পের আওতায় ছিল প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক। যাদের প্রতি মাসে সঞ্চয় ছিল ১শ থেকে ১হাজার টাকা করে। যাতে প্রায় সঞ্চিত অর্থ ছিল কোটি টাকা। বরিশাল ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক আইভি বেগমকে ফোন দিয়ে তার সাথে কথা বলি, তিনি বলেন, আমাদের কোন অফিস নেই । সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। টাকার ব্যপারে জানাতে চাইলে বলেন, টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন ক্ষমতায় থাকাকালিন সময় চালু করা হয় নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরন প্রকল্প (সিডিসি)। ২০০৯ সাল শুরু হয় এর কার্যক্রম । এদের সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এলজিইডি,ইউএনডিপি, ডিএফআইডি প্রজেক্ট গুলো। নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট, টিউবয়েল, বাথরুম সহ নানা কাজের পদক্ষেপ নেন তারা। কিছু কাজও করে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কিন্তু বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন মারা যাওয়ার পর ভাঙ্গন ধরে প্রকল্পটিতে। বন্ধ হয়ে যায় সকল কার্যক্রম। এ ব্যাপারে ফেডারেশন সভাপতি আইভি বেগম বরিশাল বাণীকে জানান, আপাদত আমাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের সংস্থাটির ব্যপারে একটি স্টেটমেন্ট নেয়া হয়েছে। শিগ্রই এ প্রযেক্ট আবার চালু হতে পারে বলে তিনি জানান। গ্রাহকের টাকা আটক রয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, যেসব গ্রাহকের টাকা জমা রয়েছে তা উঠাতে রেজুলেশন দরকার। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশন আশ্বাস দিয়েছে যে সকল কার্যক্রম আবার পুনরায় চালু হতে পারে। যদি চালু না হয় তাহলে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিয়ে দেয়া হবে। অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে আমরা সিটি কর্পোরেশনের বসেই সভা করছি।

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সমাজ ও উদ্বাস্ত উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রাসেল খান বরিশাল বাণীকে জানান, আমরা সিডিসির ব্যাপারে বিসিসি মেয়র মহাদয়কে অবগত করেছি। তিনি বলেছেন অতিশিগ্রই গ্রাহকের তথ্য নিয়ে তাদের জমানো টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমরা সংস্থাটির পক্ষ থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়েছি। তাদের টাকা যার যার একাউন্টে জমা রয়েছে। রেজুলেশন সম্পন্ন করে দ্রুত গ্রাহকের টাকা ফেরত দিয়ে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে সঞ্চিত অর্থ ফিরে পেতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যুবরতœ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কাছে দাবী জানিয়েছে সাধারন গ্রাহকরা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD