রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছে স্পিডবোট

ভোলায় পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছে স্পিডবোট

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে স্পিডবোট। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও তাঁদের লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের ভোলার সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, সমুদ্র আইনে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথকে মৌসুমি অশান্ত নৌপথ (ডেনজার জোন) ঘোষণা করে ১৫ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রীবাহী স্পিডবোট, ট্রলার, ছোট নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় বে-ক্রসিং সনদধারী ছাড়া অন্য সব নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে জানান তিনি। তবে শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি। সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর ঘাট ও লক্ষ্মীপুর মতির হাটের উদ্দেশে অর্ধশতাধিক স্পিডবোট ও কয়েকটি ট্রলার ছেড়ে যাচ্ছে। এসব স্পিডবোট পুরোনো, ফাটা ও জোড়াতালি দেওয়া। কোনোটিতে লাইফ জ্যাকেট নেই। অনেক সময় পানি ওঠে। একটি স্পিডবোটে আটজনের জায়গায় ১২ থেকে ১৫ জন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে গত কয়েকদিন আগে মতির হাট থেকে ছেড়ে আসা একটি স্পিডবোট নদীর মাঝ পথে দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে যাত্রী সেজে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোট চলাচলের সুযোগ করে দেন ঘাটে থাকা পুলিশ। পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলে এসব স্পিডবোট। ঘটনার সত্যতাও মেলেছে ঘাটে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য বশির উদ্দিনও পুলিশ ম্যানেজের বিষয়টি লুকোচুরি ভাবে প্রকাশ করেন। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। যাত্রী খায়নুর নাহার, রেহানা ও আহম্মেদ উল্লাহ অভিযোগ করেন, স্পিডবোটের চালকেরা প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। অনেক সময় যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে পথের মধ্যে স্পিডবোট বিকল হয়েছে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। নইলে চরে আটকে রাখে। মতির হাট থেকে আসা এক স্পিডবোটের চালক মাইনুদ্দিন বলেন, যাত্রীরা ঠিকমতো ভাড়া দিতে চান না বলেই তাঁদের মাঝেমধ্যে বকাঝকা করা হয়। এ ছাড়া ভোলা থেকে মতির হাট ২০-২৫ মিনিটের পথ। সেখানে ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কোনো যাত্রীর কাছে ব্যাগ বা মালামাল থাকলে তার জন্য বাড়তি ৫০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। তবে মজু চৌধুরীর ঘাটে কোস্ট গার্ড থাকায় সেখানে যেতে পারছেন না বলে জানান স্পিডবোট চালকরা।শহরের আবহাওয়া অফিস রোডের মুনসুর জমাদার করোনা ভাইরাসে স্কুল বন্ধ থাকায় বেড়াতে যাচ্ছেন মতির হাট তার এক আত্মীয়ের বাসায়। দিনে দিনে বাড়ি পৌঁছার জন্য তিনি স্পিডবোট বেছে নেন। কিন্তু অর্ধেক টাকা চলে গেছে পথের খরচে। তিনি বলেন, স্পিডবোটে কোলের পোলাপাইনেরও ভাড়া দেওয়া লাগে। স্পিডবোটের যাত্রী ও মাছ ব্যবসা নিন্দু চেঞ্জ অভিযোগ করেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ও ভাড়া নিয়ে এগুলো চলছে। ওঠা-নামার কোনো ঘাট না থাকলেও টোল ঠিকই দিতে হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ স্পিডবোট সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর পালিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সহকারী কয়েকজন। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক নিজ কার্যালয়ে প্রেগ্রামে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD