রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় ‘জোড়া খুনের’ রহস্য উদঘাটন

ভোলায় ‘জোড়া খুনের’ রহস্য উদঘাটন

ভোলায় ‘জোড়া খুনের’ রহস্য উদঘাটন
ভোলায় ‘জোড়া খুনের’ রহস্য উদঘাটন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের চাঞ্চলকর জোড়া খুন ঘটনার ১৫ দিন পর নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তি হলেন-চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উপেন্দ্র সরকারের ছেলে অমিত সরকার তপন (৫৫) ও দুলাল সরকার (৪০)। গ্রেফতাররা হলেন- বিল্লাল হোসেন, আবুল কাসেম ও আবু মাঝি। তারা উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে আবু মাঝি আসামি বিল্লাল হোসেনের শ্বশুর। চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন নিহতদের পরিচয় ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামি বিল্লাল হোসেনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকালে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ওই গ্রামের সুন্দর খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার  জানান, তিন বছর আগে নিজেদের বসতঘরসহ জমি বিক্রি করার জন্য বিল্লাল হোসেন গংদের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন অমিত ও দুলাল সরকার। আসামিরা সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। পরে জমি বিক্রির বাকি টাকার জন্য অমিত ও দুলাল চাপ দিলে আসামিরা তাদের উল্টো জমির দলিল দিতে বলেন। পরে অমিত ও দুলাল এক পর্যায়ে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাকি টাকা দেয়ার কথা বলে ভারত থেকে ডেকে এনে বাকি টাকা না দিয়েই জমির দলিল করে নেন আসামিরা। টাকা চাইলে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এ ঘটনায় নিহতরা তাদের এক চাচাতো ভাইকে দিয়ে অগ্রখরিদ মামলা করেন। এ ঘটনার জের ধরে আসামিরা নিহতদের বাকি টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আসলামপুর গ্রামে আসতে বলেন। পরে রাতে তাদের হত্যা করে মাথা কেটে ফেলেন এবং দেহের বাকি অংশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চালান বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘মামলার তদন্তের স্বার্থে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি-না তা বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করি দ্রুত এ মামলার পুরো রহস্য বের হয়ে আসবে।’ উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের আসলামপুর গ্রামের ভূঁইয়ার বাগানে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির মরদেহ দেহ স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ হত্যার রহস্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে নিয়মিত তদন্ত চালিয়ে যান। ঘটনার ১৪ দিন পর বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মস্তকবিহীন লাশের দুই মাথা ওই এলাকার ফরাজি বাড়ির মহিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় পুলিশ সাতজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামি বিল্লাল হোসেন মুখ খোলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD