শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি এমপি পঙ্কজকে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম ঝালকাঠিতে ৪ শিশু শিক্ষার্থীকে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে শিক্ষক বরিশালে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল এক পুলিশ সদস্য বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নে বিজিএফ এর চাল বিতরণ  মাদক নিরাময় কেন্দ্র নিউ লাইফের উদ্দ্যোগে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার) কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করল বরখাস্ত শিক্ষক জসিম উদ্দিন বরিশালে নবাগত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আমিন উল আহসান এর সাথে সংবাদকর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা

করোনা মহামারির বর্তমান সময়ে দেশে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রধানত দুই কারণে সৃষ্টি হয়েছে এ সংকট। প্রথমত, কয়েক দফায় লকডাউন এবং সংক্রমণের আতঙ্কের কারণে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার কতদিন পর রক্ত দিতে পারবেন, তা নিয়ে দ্বিধা-সংশয় দেখা দিয়েছে। রক্ত সংকটের কারণে যাদের প্লাজমা প্রয়োজন তারা এবং থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা পড়েছেন বিপাকে। বলা যায় হাহাকার উঠেছে রক্তের জন্য। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা হা-হুতাশ করছেন এক ব্যাগ রক্তের জন্য। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, করোনার টিকা গ্রহীতারা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ২৮ দিন পর রক্ত দিতে পারবেন। তবে অতি জরুরি প্রয়োজনে নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ বা দুষ্প্রাপ্য রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে টিকা গ্রহীতারা ১৪ দিন পর রক্ত দিতে পারবেন। এছাড়া করোনার টিকা গ্রহীতা যে কোনো সুস্থসবল রক্তদাতা থেকে রক্ত গ্রহণ করা যাবে। বোঝাই যাচ্ছে, দেশে রক্ত পরিসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং করোনাকালে রক্ত দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা-সংশয় দূর করতেই জারি করা হয়েছে এ নির্দেশনা। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রতিবছর দেশে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর একটি বড় অংশ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জীবন বাঁচানোর জন্য নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ক্ষেত্রেও রক্তের নিয়মিত প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া হাসপাতালগুলোয় নিয়মিত সার্জারি ও প্রসূতি মায়েদের জন্য লাগে রক্ত। রক্তের এতটাই যখন প্রয়োজনীয়তা, তখন করোনাকালে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে দাতার রক্ত দেওয়া নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। এ সময় কারা রক্ত দিতে পারবেন আর কারা পারবেন না, তা নিয়েই এই মতভেদ। অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করায় আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। এখন থেকে রক্ত দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা নির্দেশিত পথেই রক্ত দিতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন পড়ে, যা কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদন করা যায় না। মানবদেহ থেকেই তা সংগ্রহ করতে হয়। মানবসভ্যতার এটা এক বড় শুভ দিক যে, ব্যাপকসংখ্যক মানুষ অন্যের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে থাকেন। দেশে প্রতিবছর যে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন পড়ে, তা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যাপকসংখ্যক মানুষের অবদানের জন্যই সম্ভব হয়। কিন্তু করোনাকালে এই রক্তদান প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটেছে এবং তা যুক্তিসংগত কারণেই। রক্ত দেওয়ার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে বুঝতে পারছিলেন না, এই সময়ে রক্ত দেওয়ার জন্য তারা উপযুক্ত কি না। যা হোক, অবশেষে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে, এটি স্বস্তিদায়ক। দেরিতে হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পর রক্ত পরিসঞ্চালনে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
Design By MrHostBD