মোঃ মাসুম খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠি রাজাপুরের তালিকাভূক্ত ইয়াবা সম্রাট আরিফ ও তার দলবল এবার ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে খামারের মালিক জালাল সর্দার (৪৫) কে ১০পিচ ইয়াবা দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ষড়যন্ত্রের শিকার মৎস্য-পোল্টি মালিক জালালের ছোটবোন মোসা: মরিয়ম ও তার বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগম আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ঝালকাঠি টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য অভিযোগ বলা হয়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিরশাহ গ্রামের স্থানীয় জালাল সর্দার ২০১৫ সালে নিজ এলাকায় ১একর ৬৫শতাংশ সম্পত্তিতে মৎস্য ও পোল্টি খামার শুরু করে। ২০২০ সালে শীত মৌসুমে হঠাৎ খামারে অগুন লেগে প্রায় ৩হাজার মুরগীসহ খামারটি সম্পূর্ন পুড়ে গেলে সে ব্যবাসায়িক বিপর্যয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার পূর্ব পরিচিত পার্শবর্তী রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ পারভিনের সাথে আলাপ করলে সে উক্ত ফার্মে ১০লাখ টাকার বিনিয়োগ করে ৪০% লাভে ব্যবসায়িক অংশিদার হতে চায়। এতে রাজী হলে গত ১৮ মে ঝালকাঠির এড. নুর হোসেনের সহযোগীতায় নোটারী পাবলিক তাদের দুজনের মধ্যে একটি হলফনামা চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী জালাল সর্দারকে সেদিনই ১০লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও শাহানাজ পারভিন তাকে পরের দিন তাদের বাড়ীতে টাকা নিতে আসতে বললে সরল বিশ্বাসে সে বাড়ী ফিরে যায়। পরের দিন বেলা ১১টায় শুক্তাগড় গ্রামে আসলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে শাহানাজ পারভিনের ছোট বোনের জামাই ইয়াবা সম্রাট, বহু ইয়াবা মামলার আসামী আরিফ হোসেন ওরফে আরিফ মাতুব্বর ও তার ১০/১৫জন সহযোগী তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা পাঞ্জাবীর পকেট থেকে নোটারী হলফনামার কপি ছিনিয়ে নিয়ে কিছু ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি পোটলা পকেটের মধ্যে ডুকিয়ে দেয়। এমন কি তাকে আটকে রেখে ইয়াবা সম্রাট আরিফ পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে মাদক ব্যবসায়ী আটকের মিথ্যা খবর দিলে রাজাপুর থানা থেকে এসআই মামুন কয়েকজন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা জালাল সর্দারকে পুলিশে হাতে তুলে দিলে তাকে ধরে থানায় নিয়ে এসে এসআই মামুন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলায় চালান দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়।এসময় আটক জালাল সর্দার থানা পুলিশকে বার বার ব্যবসায়ীক চুক্তি ও টাকা নিতে আসার কথা বললেও তাতে কোন কর্নপাত নাকরে গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগে জানায়। তাই এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে আদালত, পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে মাধ্যমে উক্ত শাহানাজ পারভিন, তার ছোটবোন জামাই ইয়াবা সম্রাট আরিফ মাতুব্বর চক্রের ষড়যন্ত্র ও নির্যাতন রক্ষার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান। এ ব্যাপারে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ীকে আটক ও মামলার বাদী এসআই মামুনের বকাতব্য জানতে বার বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পলাশ জানান, তিনি দায়িত্ব পেয়ে সরজমিন গেলে সংবাদদাতা আরিফ হোসেন একজন মাদক ব্যবসায়ী বলে স্থানীয় লোকজন ও মামলার স্বাক্ষীরা জানিয়েছে। তবে তদন্তে প্রকৃত সত্য যা পাবো তাই রিপোর্ট দেবো বলে নিশ্চিত করছি।