সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

ছেলের পেনশনের টাকা পেতে অসুস্থ্য মায়ের আর্ত্মনাদ

ছেলের পেনশনের টাকা পেতে অসুস্থ্য মায়ের আর্ত্মনাদ

ছেলের পেনশনের টাকা পেতে অসুস্থ্য মায়ের আর্ত্মনাদ
ছেলের পেনশনের টাকা পেতে অসুস্থ্য মায়ের আর্ত্মনাদ

ঝালকাঠিতে মৃত ছেলের পেনশনের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন হতভাগ্য অসুস্থ মা। সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনাইকাঠি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারেদিয়া গ্রামের মৃত. সৈয়দ আব্দুল ওহাবের ছেলে সৈয়দ গোলাম ফারুক বরিশাল নগরীর রূপাতলী গ্যাস টারবাইন এলাকার বিদ্যুত কেন্দ্র (বিউবি) তে ফোরম্যান-বি পদে কর্মরত অবস্থায় গত ২০১৯ সালে ২১ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার ঘরে তার স্ত্রী, মা, এক পুত্র, অবিবাহিত দুই বোন ও প্রতিবন্ধি এক ভাই রয়েছেন। গোলাম ফারুক তার চাকুরীরত অবস্থায় তার পেনশনভোগী হিসেবে কাউকে নমিনী শেণীভূক্ত করে যায় নি। তার মৃত্যুর পরে পেনশনের মোট ৭৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য ওই দপ্তর কিন্তু সেই টাকা আত্মসতের অভিযোগ উঠেছে গোলাম ফারুকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গোলাম ফারুকের এ অভিযোগ এনে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ বরিশাল গ্যাসটারবাইন বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বরাবর, ২০২০ সালে ১৩ জুলাই ঝালকাঠির বিনাইকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের কাছে কোন সহযোগিতা না পেয়ে গোলাম ফারুকের অসুস্থ মা ২০২০ সালের ১৬জুলাই বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (জেনারেশন) বরাবর আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গোলাম ফারুকের দাফন কাফন বাবদ ৯লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, জিপি ফান্ডের ১৬ লক্ষ টাকা, ছুটির নগদায়নের ৮২ হাজার টাকা তার অসুস্থ মায়ের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তুলে নেয় তার স্ত্রী সৈয়দা জেসমিন আক্তার। এছাড়া অবশিষ্ট থাকা ৫৩ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার পায়তারা চালানোর অভিযোগও উঠেছে সৈয়দা জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে। গোলাম ফারুকের মা সেতারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এই জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন এক্সিয়ান হাসান মাহমুদ এবং ওই অফিসের কর্মচারী (অবসারপ্রাপ্ত) ফজলু। তারা নিয়মঅনুযায়ী আমাকে না জানিয়ে জেসমিনের জালিয়াতিতে সহযোগীতা করেন। মুসলিম ফরায়েজ মোতাবেক ১হাজার অংশের ১৬৭ অংশের অংশিদার আমি। কিন্তু আমার পুত্রবধু জেসমিন আক্তার তা দিতে আমাকে অসম্মতি জানান। মূলত আমি একজন প্যারালাইজড রোগী। আমি চলাফেরা করতে পারি না। আমি আমার ছেলের উপরেই নিরর্ভরশীল ছিলাম। এছাড়া আমার ছোট ছেলেটাও প্রতিবন্ধি, দুইটা মেয়ে বিবাহযোগ্য। আমার পূত্রবধূ জেসমিন আমাদের কোন খোঁজ খবর রাখেনা, ভরন-পোষণ দেয় না, সব মিলিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি যাতে আমি আমার প্রাপ্য অর্থটুকু পাই, তাহলে আমি কোনমতে জীবনযাপন করতে পারবো।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD