শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাবুগঞ্জে রাতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল নিয়ে হাজির ইউএনও বাবুগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের বাবুগঞ্জে জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত আমরা প্রতিশোধ মূলক কোনো কাজ করব না-জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদর্শনীর বীজ ও উপকরণ বিতরণ বরিশালে এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান: মানহীন মিষ্টি–আইসক্রিম কারখানায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা বাকেরগঞ্জে অসহায়-হতদরিদ্র পরিবার উপহার পেল ’স্বপ্নকুঞ্জ’ বাবুগঞ্জে বেপরোয়া কিশোরগ্যাং: কলেজ ছাত্রকে মারধরের পর ফেসবুকে পোস্ট বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উৎসাহ—জনসমর্থনে এগিয়ে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জ এলজিইডি’র এলসিএস কমিউনিটি অর্গানাইজার সানজিদার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ
রিমান্ডে নিয়ে নরী আসামীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

রিমান্ডে নিয়ে নরী আসামীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

রিমান্ডে নিয়ে নরী আসামীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
রিমান্ডে নিয়ে নরী আসামীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলার নারী আসামীকে শারিরীক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের উজিরপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ‌এ ঘটনায় ওই নারীর শারিরীক পরীক্ষা করে জখম, নির্যাতনের চিহ্ণ ও নির্যাতনের সম্ভাব্য সময় উল্লেখকরে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেইসাথে এ কার্যক্রম একজন মহিলা রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসক দ্বারা করনোর পাশাপাশি বরিশালের সিনিয়র জেল সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আসামীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের জন্যও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে এ ঘটনার এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে অভিযুক্তদের কঠোর বিচার দাবী করেছেন আসামীর স্বজন, আইনজীবী ও মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ। তবে আসামীর এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান। মামলা, থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানাগেছে, গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৭ জুন মৃতের ভাই বরুন চক্রবর্তী উজিরপুর মডেল থানায় শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে মিনতি বিশ্বাস ওরফে মিতু অধিকারী (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলার আসামী হিসেবে মিনতি বিশ্বাস ওরফে মিতু অধিকারী (৩০)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানা পুলিশের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালত মিতুর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই মিতুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে খুড়িয়ে হাটতে দেখে এর কারন জানতে চান আদালত। মিতু আদালতের কাছে তাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ণ পায়। এরপর আদালত আইন অনুযায়ী মিতু অধিকারীর বিবৃতি লিপিবদ্ধ করেন। পাশাপাশি আদালত তার যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং তাকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দেন। মিতুর ভাই উত্তম অধিকারী অভিযোগ করে বলেন,মিথ্যা মামলা দিয়ে তার বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর তাকে রিমান্ডের নামে থানায় নিয়ে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাইনুল এবং এক নারী কনস্টেবল। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য তাদের হুমকী দেয়া হচ্ছে এবং চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। মিতুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান বলেন,পুলিশ রিমাণ্ড চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সতর্কতার সাথে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ মিনতিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরক এবং স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতন করেছে। যা  যৌন হয়রানী ও নির্যাতনের শামিল। আবার আদালত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠালে সেখানেও পুলিশ প্রভাব খাটিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি এই ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেন। তবে থানায় রিমান্ডের সময় মিতু অধিকারীকে শারীরিক কিংবা যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান। এছাড়া রিমান্ডে নারী আসামীকে ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান। এদিকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, আদালত মিতু অধিকারীকে চিকিৎসা প্রদান এবং অন্যান্য (শারীরিক ও যৌন নির্যাতন) বিষয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই নারীকে চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তাকে নির্যাতনের বিষয়ে যথা সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য গত শুক্রবার রাত ১০টায় শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মিতু অধিকারীকে। পরে তাকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসি সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। সেখানে কয়েক ঘন্টার চিকিৎসা প্রদান শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD