শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
বাউফল:
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে গড়ে ওঠা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমত পরিচালিত হচ্ছে প্রতিটি ক্লিনিক। ওই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ করা দালালদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। সরেজমিন দেখা গেছে, ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে (২০থেকে ১০০ গজের মধ্যে) সেবা ডায়গনোস্টিক সেন্টার, কথা মনি ডায়াগনোস্টিক, ইসেব ডায়গনোস্টিক এবং পশ্চিম পাশে জাবির ডায়গনোস্টিক, পলি ও হেলথ কেয়ার ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে এসব ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো চালানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের এমটিতে (ল্যাব) নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে হাতুড়ে ব্যাক্তিদের দিয়ে। সেবা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে রেডিও গ্রাফার হিসেবে সাহাদৎ হোসেন নামের এক ব্যাক্তির নাম থাকলেও বাস্তবে কাজ করছেন সেলিম ও আরিফ নামের দুই ব্যক্তি। ইসিজির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন লিমা আক্তার নামের এক তরুনী। অথচ এদের কারোরই ওই বিষয়ের উপর কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই। এছাড়াও এই ক্লিনিকে ৬ জন ডিপ্লোমাধারী সেবীকার নাম নথিভুক্ত থাকলেও তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমবিবিএস ডিগ্রীধারী ৩ জন চিকিৎসকের নাম নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে তারা কেউই এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই। আবাসিক চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকা ডা. আহম্মেদ কামাল নামের একজন কে দিয়ে চালানো হচ্ছে সার্জন ও এ্যানেসথোলজির কাজ। পরমাণু শক্তি কমিশনের সনদ ছাড়াই হরদমে চলছে এক্স-রের কাজ। সেবা ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের নিয়োগকরা কয়েকজন দালাল প্রতিনিয়ত বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে ঘোরাফেরা করেন। তারা প্রসুতি রোগীদের টার্গেট করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সেবা ক্লিনিকে ভর্তি হতে বাধ্য করেন। বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎকদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রোগীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করে দালালরা। কথামনি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নিবন্ধন থাকলেও নিয়মের সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। ওই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এক্স-রে, আল্ট্রাসনো, রক্ত পরীক্ষা করার জন্য সনদধারী কোন লোক নেই। হাতুঁড়ে লোকজন দিয়ে চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। এছাড়া টিনের ঘরে চলছে ইসেব নামের ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। ওই প্রতিষ্ঠানে এমটি (ল্যাব) হিসেবে জহিরুল ইসলামের নাম নথি ভুক্ত থাকলেও তার স্থলে কাজ করছেন মাহবুব নামের একজন। এক্স-রে, আল্ট্রাসনো, রক্ত পরীক্ষা সব চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি নিজেই। এ প্রতিষ্ঠানেও নেই পরমানু শক্তি কমিশন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। পলি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানে এক্সরে মেশিন চালানো হচ্ছে সুমন নামের একজন অপারেটর দিয়ে। তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই। ওই পলি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা নিয়মতি রোগী দেখেন। এসব অনিয়ম তার চোখে পরছে না। জাবির ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে পরিবেশ অধিদফতরের সনদ, পরমাণু শক্তি কমিশনের সনদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এমটি (ল্যাব) রেডিওগ্রাফার না থাকলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের আগের নাম ছিল নিরাময় ডায়গনোস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিক। পরিবেশ অধিদফতরের কোন সনদ নেই। এই ক্লিনিকে এক প্রসূতি মায়ের অপরারেশনের সাড়ে তিন মাস পর তার পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করার ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি নিরাময় ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করে হেলথ কেয়ার ক্লিনিক নামে চালানো হচ্ছে। এই ক্লিনিকে এমটি (ল্যাব), এক্স-রে, আলট্রাসনো ও রক্ত পরীক্ষা করার জন্য কোন সনদধারী লোক নেই। জাবির নামের অপর একটি ডায়গনোস্টিক সেন্টার চালানো হচ্ছে বিধি বর্হিভূত ভাবে। এছাড়াও উপজেলার কালিশুরী, নুরাইনপুর, নগরের হাট ও কালাইয়াসহ অনেক জায়গায় নিয়ম না মেনেই অবৈধ ভাবে ডায়াগনোস্টিক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এসব ডায়গনোস্টিক সেন্টারগুলোতে মানসম্পন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছেনা। ভুল রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছেন ভূক্তভোগীরা। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতিপয় অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসব ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন,‘বাউফল উপজেলার ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর রেজিষ্ট্রেশন নবায়নের সময় সব যাচাই বাছাই করে দেখা হবে’। প্রতিষ্ঠানগুলোর ত্রুটি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।