প্রতিবেদক,

বিএফ খান সবুজ বাকেরগঞ্জ:
বাকেরগঞ্জ থানা মূল ফটকের সামনে ১২ই জুলাই সোমবার দেশের বৃহত্তম আলোচিত ইলেকট্রনিক শোরুম মিনিস্টার ইলেকট্রনিক্স বাকেরগঞ্জ শাখার সেলসম্যান রফিকুল আলম(২৫) নামের এক যুবকের রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। রফিকুল আলমের গ্রামের বাড়ি বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকায়। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময়ে শোরুম এর ম্যানেজারের টেবিলের উপরে রহস্যজনক এক চিরকূট লেখা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই চিরকুটে লেখা রয়েছে, আমার আবেগের দাম কেউ দিল না। এত কষ্ট নিয়ে জীবনে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। আমাকে মাফ করে দিয়েন সাজ্জাদ ভাই শোরুম ম্যানেজারকে উদ্দেশ করে লেখা। মৃত্যুর পরে লাশটি আমার পরিবার থেকে দাবি করা হলেও তাদের দিবেন না। আমার লাশ মেডিকেলে দান করে গেলাম। কিন্তু চিরকুট মৃত্যু ব্যাক্তির নিজের লেখা কিনা সন্দেহ রয়েছে। বাকেরগঞ্জের আঞ্চলিক কোম্পানি শোরুম মিনিস্টার ইলেকট্রনিক্স এর ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন জানান, দুই মাস আগে রফিকুল আলম সেলসম্যান হিসেবে বাকেরগঞ্জ থানা সংলগ্ন মিনিস্টার শোরুমে কাজ শুরু করেন। সোমবার ১২ই জুলাই সকাল সারে ৯টার দিকে তিনি দোকানে এসে দেখেন, সাটার ভেতর থেকে বন্ধ। পরে তিনি থানা পুলিশকে খবর দিলে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার উপস্থিতিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। চিরকুটটি শোরুমের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেনকে লেখার বিষয়টি তাহার নিকট জানতে চাইলে সাজ্জাদ হোসেন হঠাৎ চমকে যায়। কিছুক্ষণ পরে জবাব দেয় রফিকুল আলমের পরিবারের সাথে মনোমালিন্যতা ছিলো তাই আমার কাছে লিখতে পারে। নিহত রফিকুল আলম রাতে তার ভাড়া বাসায় থাকত কিন্তু শোরুমে তার লাশ কিভাবে আসলো? এমনটা জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেননি শোরুম ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন। বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলাউদ্দিন মিলন বলেন, প্রাথমিক সিমটমস আত্মহত্যার দেহটি রফিকুল আলম কে শোরুমের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। লাশ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পাঠিয়েছি। মৃত্যুর কারণ এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে শোরূমের ভেতরে একটি চিরকুট লেখা পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন সকাল থেকে বাকেরগঞ্জ বন্দর এর সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এর পরে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন আকারে আদালতে প্রকাশ করা হবে।