জাকারিয়া জাহিদ , কুয়াকাটা (কলাপাড়া ) প্রতিনিধি ঃ
কলাপাড়ায় কঠোর লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষজন ঠিকমতো টিসিবিথর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী না পাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক সেলে যথাযথ তদারকি না থাকায় লুটপাটের এ ধরনের অভিযোগ সবসময়ই উঠে আসছে। এরফলে নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষের ভরসা ন্যায্য মূল্যের টিসিবি পন্যও এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এছাড়াও টিসিবিথর কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাবে নিত্য পন্যের বাজার মূল্যের উর্ধ্বগতি, কালোবাজারি ও মজুদদারী নিয়ন্ত্রনে না থাকায় একটি ভালো উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার ফলে ডিলারদের ভর্তুকী দিয়েও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে টিসিবির দ্রব্যসামগ্রী বিক্রয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এদিকে ডিলাররা বলছেন ডিপো থেকে পন্যসামগ্রী আনার পর ট্রাকে করে বিক্রীর দীর্ঘ লাইনে এক ঘন্টায়ই সব শেষ, কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষজন বলছেন করোনাথর মধ্যে লাইনে দাড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে টিসিবির পন্য সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ঠিকমতো যাতে বিতরন হয় সেজন্য তারা সবসময় কঠোর অবস্থানে। টিসিবিথর নীতি মালা কতটুকু অনুসরন করছেন ডিলাররা অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিংহভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ টিসিবিথর সুবিধা বঞ্চিত। কিন্তু ডিলাররা সবসময় ২/১ ঘন্টার জন্য টিসিবি পন্য বিক্রী করেই পন্য শেষ হওয়ার কথা বলছে। অথচ সেই ২/১ ঘন্টার লাইনে দাড়িয়েও ডাল পেয়েছে তো চিনি পায়নি। চিনি পেয়েছে তো তেল পায়নি, এ অভিযোগ নিম্ন আয়ের মানুষজনের। তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সিংহভাগ টিসিবি ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে। নজরদারির অভাবে নীতিমালা ঠিকমতো অনুসরন করছেনা ডিলাররা। কলাপাড়ায় ৩জন ডিলার থাকার কথা তথ্য অফিস বললেও ইত্যাদি ষ্টোর ও মার্জিয়া নামে দুথজন টিসিবি ডিলারের তথ্য পাওয়া গেছে। লতিফ ষ্টোরথর লতিফ খালাসি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় তার ছেলের নামে ডিলার শিপ পরিবর্তনের আবেদন করেছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরমধ্যে কুয়াকাটায় মার্জিয়া ষ্টোরথর স্বত্ত্বাধিকারী ৬জুলাই বরিশাল থেকে ২১০০ কেজি পন্য পেলেও ২০০০ কেজি পন্য পাওয়ার কথা বলছে, কিন্তু অফিস বলছে ২১০০ কেজি। ইত্যাদি ষ্টোর ২০০০ কেজি পন্য পেয়েছে। দুথজন ডিলারই বলছে ট্রাক সেলে ঘন্টা খানেক সময়ের মধ্যে সব পন্য শেষ। যারফলে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতি লি: সয়াবিন তেল ১৪০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৭৫ এবং ডাল ৮০-১১০ টাকা মূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। টিসিবিথর সুবিধা বঞ্চিত থাকছে নিম্ন আয়ের অধিকাংশ মানুষজন। এমনকি খোদ উপজেলা প্রশাসনের জারিকারক আবুল হোসেন মোল্লা ও নৈশ প্রহরী মামুন ১০ জুলাই লাইনে দাড়িয়ে টিসিবি থেকে মাত্র ৫ লি: তেল কিনতে পেরেছেন। ডাল, চিনি পাননি তারা, যা তাদের বাজার থেকে কিনতে হয়েছে। টিসিবিথর বরিশাল সহকারী কার্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলা ও পৌরশহরে পর্যায়ক্রমে ট্রাক সেলে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিক্রী করবে। যাতে প্রতি লি: তেল ১০০টাকা, কেজি প্রতি চিনি ৫৫ টাকা, ডাল ৫৫ টাকা হারে কিনতে পারে নিম্ন আয়ের মানুষ। এজন্য লিটার ও কেজি প্রতি ডিলারদের ৭-৮ টাকা হারে ভতুর্কী দিচ্ছে সরকার। টিসিবি কর্মকর্তা আরও জানান, ডিলারদের ট্রাক সেলে স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম তদারকি করবে। শৃংখলা রক্ষায় নিম্ন আয়ের মানুষ লাইনে দাড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ন্যায্য মূল্যে পন্য সামগ্রী কিনবে। যাতে ক্রাইসিস পিরিয়ডেও দেশে দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল থাকে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও কালো বাজারি নিয়ন্ত্রনে থাকে। টিসিবি ডিলার ইত্যাদি ষ্টোরের প্রোপাইটার সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল গোডাউন থেকে ১০জুলাই ১৯০০ কেজি পন্য পেয়েছি। তেল ১হাজার লিটার, ডাল ৫০০ কেজি ও চিনি ৪০০ কেজি। যা ওই দিনই বিকেলে কলেজের খোলা মাঠে ট্রাক সেলে ১ ঘন্টার মধ্যে বিক্রী শেষ।থ মার্জিয়া ষ্টোরথর প্রোপাইটার মোস্তাফিজ বলেন, ৬জুলাই বরিশাল থেকে তেল , ডাল ও চাল পেয়েছি ২হাজার কেজি। যা ওইদিন বিকেল কুয়াকাটা চৌরাস্তা সংলগ্ন ধান সিঁড়ি ডাক বাংলোর নীচে ট্রাক সেলে ঘন্টা খানেকের মধ্যে বিক্রী শেষ। টিসিবি পন্য বিক্রীর সময় উপজেলা প্রশাসনের তদারকি ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে দুথজন ডিলারই বলেছেন তারা মুঠো ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ট্রাক সেল করেছেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক গনমাধ্যমকে বলেন, টিসিবি ডিলারদের নীতিমালা অনুসরন করে পন্য বিক্রীর জন্য বলা হয়েছে। ডিলারদের আবারও বিষয়টি বলা হবে। টিসিবি পন্য বিক্রীতে কোন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি-বিশ্ছৃঙ্খলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।