নিজস্ব বার্তা :
বরিশালের শায়েস্তাবাদ ও বেলতলা খেয়াঘাটে ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগের পর এবার বিতর্ক উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটির দপদপিয়া খেয়াঘাটকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে প্রতিনিয়ত এ ঘাট থেকে সরকারী রেট অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে ঘাট ইজারাদার। এতে করে নিত্য খেয়া পারাপার করা যাত্রীরা বেশ বিপাকেই পড়েছেন বটে। জানা যায়, সরকার নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী খেয়াঘাট থেকে জনপ্রতি ৫ টাকা হারে ভাড়া উত্তোলন করার নীতিমালা রয়েছে। তবে ইজাদাররা বাড়তি অর্থ আদায়ে খেয়াঘাট থেকে পারাপার হওয়া যাত্রীদের থেকে ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা আবার এমনকি ২০ টাকাও আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন পারাপারগামী যাত্রীরা। এছাড়া অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে ইজারাদারদের থেকে লাঞ্ছিতও করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রীরা জানান, আমরা এর আগে যখন পারাপার হতাম তখন মাথাপিছু ৫ টাকা হারে ভাড়া নেয়া হত। কিন্ত কিছুদিন আগে থেকে আমাদের কাছে ৫ টাকার পরিবর্তে কখনও ১০ টাকা আবার এর থেকে বেশিও আদায় করা হচ্ছে। আমাদের গন্তব্যে ফিরতে হবে ভাড়া নিয়ে কষাকষি করলে ভাড়াতো কম নেইনা অথচ লাঞ্ছিতের ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে এই ইজারাদাররা । স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দপদপিয়ার এ খেয়াঘাট থেকে পারাপারের জন্য জনপ্রতি ৫ টাকা, চালকসহ বাই সাইকেল ১০ টাকা , চালকসহ মোটর সাইকেল ১৫ টাকা টাকা হারে পারাপারের কথা রয়েছে। তবে এমন নির্ধাধিত হারে ভাড়া উত্তোলনের বিষয়টি তোয়াক্কাই করছেন না ইজারাদাররা বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তথাপি যাত্রিদের থেকে প্রতিনিয়ত সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে চলেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভুগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মটর সাইকেলের এক চালক জানান, চলতি মাসের প্রথম দিকে লকডাউনের মধ্যে আমি দপদপিয়া এ খেয়াঘাট থেকে ওপার যাওয়ার জন্য খেয়াঘাটে পৌছালাম । খেয়াঘাটের এক কর্মী জানান, আমাকে ৫০ টাকা দিতে হবে । যদিও এর আগে ভাড়া দিতাম ১৫ টাকা কিন্ত হঠাত এমন অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার কারনটি বোধগম্য ছিল না। স্থানীয়রা জানায়, এ খেয়াঘাট থেকে ওষুধ উৎপাদন কাজে নিয়োজিত অপসনিন কোম্পানিতে কাজ করা প্রায় শতাধিক শ্রমিক, স্থানীয়সহ দূর-দুরান্ত থেকে আসা সব মিলিয়ে দৈনিক ৭০০/৮০০ জন যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। এদের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীর মধ্যে একাধিক যাত্রীরা জানান, সরকার নির্ধারিত হারে যেমন ভাড়া আদায় করা হচ্ছেনা তেমনি চলমান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না তেমন কোন স্বাস্থ্যবিধিও। যখন যাত্রী কম হয় তখন খেয়াঘাটের এপার থেকে ওপার কম যাত্রী নিয়েই যাওয়া হয় । আবার যখন যাত্রী বেশি হয় স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ট্রলারে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করে পারাপারের পাশাপাশি জনপ্রতি ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা আবার কখনও তার থেকেও বেশি নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও খেয়াঘাটটিতে যাত্রী পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টানানোর কথা থাকলেও সেটিও খেয়াঘাটতিতে টানানো হয়নি। এ বিষয়ে যাত্রীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্সন করেছেন। এছাড়াও ই খেয়াঘাটটি ইতিপুর্বে খাসকালেকশনের আওতাভুক্ত ছিল। তখনকার পরিচালনায় থাকা এক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, আমরা খেয়াঘাটটি থেকে বারংবার নির্ধারিত হারেই ভাড়া উত্তোলন করেছি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পূনরায় ঘাটটি পরিচালনায় সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক আবেদন চাওয়া হলেও নির্দিস্ট সময়ের আগেই বর্তমান ইজারাদার কোন এক শক্তি বলে ইজারাটি পেয়ে যান। এটা কিভাবে হল তা সত্যিই আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে দপদপিয়া খেয়াঘাটের এক ইজারাদার শামীম জানায়, ৮ টাকা জনপ্রতি যাত্রী পারাপারে আমরা ইজারা চুক্তি নিয়েছি। এছাড়াও আমরা যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করিনা। সরকার নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। দপদপিয়া এলাকার তহসিলদার আলতাফ হোসেন জানান, জনপ্রতি ৫ টাকা হারে ইজারা প্রদান করা হয়েছে বলে আমি জানি ।