বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন
ডেস্ক:
পিরোজপুরের পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণ নির্মাণকাজ চলাকালীন ভবনের বিভিন্ন কলামের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। এতে নির্মাণকাজ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয়রা। তবে নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের বলেছেন নির্মাণসামগ্রী নয় মিস্ত্রীর কাজের ত্রুটির কারণে খুলে পড়ছে পলেস্তারা। জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর শিক্ষা প্রকৌশলী কার্যালয়ের অধীনে ২ কোটি ৮১ লাখ ২২ হাজার ৪১১ টাকা ব্যয়ে জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পিরোজপুরের ‘আলেয়া কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই এ ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ স্থানীয়রা। এরপর শনিবার বিদ্যালয়ে চতুর্থ তলায় কলামের কাঠ খোলার পরপরই সেখানে কলামের পলেস্তারা খুলে পড়ে যাচ্ছিলো। যাতে করে কলামের রড বের হয়ে আসে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দেওয়ার ফলে বিদ্যালয়টির নব নির্মিত ভবনের অন্যান্য কার্যক্রমও পড়েছে ঝুঁকির মধ্যে। যেকোনো সময় হতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এই ভবনটি মানসম্মত কাজের মাধ্যমে গড়ে তোলা হোক এমনটাই দাবি শিক্ষক ও এলাকাবাসীর। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য বাবুল খান বলেন, বিদ্যালয়ের কাজের জন্য নিম্নমানের উপকরণ বা মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিদ্যালয়ের কলামে পলেস্তারা খুলে খুলে পড়ছে। ঢালাই কাজে বালু ও সিমেন্ট খুবই কম ব্যবহার করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাই এ সমস্যা হয়েছে। আমরা চাই মানসম্মত কাজের মাধ্যমে বিদ্যালয় ভবনের কাজ শেষ হোক। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শিব শংকর সাহা বলেন, বিদ্যালয় ভবনের কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। গ্রেড-ননগ্রেড রড দিয়ে পিলারের ঢালাইয়ের কাজ করেছে। করোনাকালীন আমরা বিদ্যালয়ে না থাকায় এই সুযোগে তারা নিম্নমানের কাজ করে ভবনের কাজ শেষ করছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোস্তফা তালুকদার বলেন, নিম্নমানের কাজের কারণে আমরা বিভিন্নভাবে কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। আবার অভিযোগ দেওয়ার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দেওয়া হবে বলেও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন কি কাজের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী অলক সরকার এখানে আসেন না। তাকে বিষয়টি জানলেও কোনো লাভ হয়নি। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আলেয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক নাসির শেখ জানান, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিস্ত্রিদের ভুলের কারণে এমনটা হয়েছে। ভবনের চতুর্থ তলার কলামের ঢালাই দেওয়ার সময় মিস্ত্রি সঠিকভাবে কাজ না করার জন্যই এ ভুল হয়েছে। পিরোজপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিভা সরকার জানান, ওই বিদ্যালয় ভবনের ৫টি কলাম তৈরিকালে মসলা ভালো করে ভাইব্রাট করা হয়নি। এছাড়া মসলা মিলানোর অনেক পরে তা কাজে লাগানো হয়েছে। এ কারণে ওই সমস্যাটি হয়েছে। খবর শুনে সেখানে গিয়ে পরিদর্শনের পর ওই ৫টি কলাম ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।