বরগুনা সদর ইউনিয়নে বাদল খান (৭০)নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা ও বেতাগী উপজেলার আলোচিত সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার টিটু ( ৪৫) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল গভীর রাতে হাট ইজারাদার ব্যবসায়ী বাদল খান রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জলের একটি দল আগে থেকেই বাদল খানের একতলা বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে ওৎ পেতে থাকে। রাত যখন গভীর হয় আনুমানিক তিনটার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধ বাদল খানের মাথার ডান পাশে উপর্যুপরি তিনটি কোপ দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে দ্রুত আক্রমণ কারীরা চলে যায়। বাদল খানের স্ত্রী এসময় ডাক চিৎকার দিলে বাদল খানের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে আসে। তারা বাদল খান কে রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। বরগুনা থেকে ফোন করে ঘটনাস্থলে এম্বুলেন্স এসে পুনরায় হাসপাতালে যেতে বিলম্বিত করায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বরগুনা সদর থানা পুলিশ এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং তারা বরগুনা জেলা পুলিশের সিআইডি টিমকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থল কর্ডন করে তদন্ত করে ও সুরতহাল প্রস্তুত করে। বাদল খানের লাশ ময়না তদন্ত করে আসর বাদ নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহত বাদল খান গৌরিচন্না ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একজন কর্মী ছিলেন। এদিকে জেলার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর টিটু আজ সকালে বেতাগী উপজেলা থেকে তার সম্মানী ভাতা তুলে বাড়ি ফেরার পথে সকাল ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে ইট দিয়ে উপর্যপরি আঘাত করার ফলে মারাত্মকভাবে জখম হয়। আহত মেম্বার টিটুকে বিকেল চারটার সময় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত টিটু মেম্বারের বিরুদ্ধে বেতাগী থানা একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন-পরবর্তী একাধিক হিন্দু পরিবারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। নিহত টিটুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।