শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া:
ভিজিডি কার্ডধারীর চাল যাচ্ছে অন্যের ঘরে। হতদরিদ্র অসহায় এক নারীর চাল চারবার অন্য এক নারীর নামে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে , উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোয়াইলবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র অসহায় জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৩০)’র নামে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর একটি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে প্রতিমাসে তার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ডের চাল দেওয়া হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সুরাইয়া বেগম ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান ইউনিয়ন পরিষদে জমাকৃত ভিজিডি কার্ডে তার ছবি ও স্বামীর নাম। অথচ সেই কার্ড দিয়ে ফারজানা নামের একজনের আঙ্গুলের ছাপে ৪বার চাল তুলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সুরাইয়া বেগম বলেন, কোম্পানিতে চাকরি করতেন তার স্বামী। কোভিড-১৯ এ ওই কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন তারা। তখন থেকে সুরাইয়া বেগম এলাকার তৎকালীণ মেম্বার শাহাজাহান হাওলাদারের কাছে গেলে গত ৮/৯ মাস আগে তিনি ভিজিডি কার্ডের জন্য তার ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নেন। কার্ড একজনের নামে হওয়ার পরেও সেই কার্ড থেকে ফারজানা বেগম বিগত সময়ে পর্যায়ক্রমে ৪ বার চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন কিভাবে। এর পিছনে কি সাবেক ওই মেম্বারের হাত রয়েছে? সুরাইয়া বেগম শাজাহান মেম্বারের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ করে বলেন, তার দেবর ইব্রাহিম হাওলাদার সন্তানের জন্মের পরে মাতৃত্বকালীন ভাতার মাধ্যমে সহায়তা পেতে ওই মেম্বারে কাছে যান। ওই সময়ে মেম্বার ৫হাজার টাকার বিনিময়ে কার্ডটি করে দিতে পারবেন বলে জানান। পরে তার দেবর ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে মেম্বারকে দিয়েও গত ৮ মাসে কোন মাতৃত্বকালীন শিশু কার্ড পাননি। ইউপি মেম্বারের যোগসাজশে তার ভিজিডি কার্ডের চাল তুলে নেওয়া ও ৫ হাজার টাকা দিয়েও মাতৃত্বকালীন ভাতা না পাওয়ার বিষয়ে সুরাইয়া বেগম ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার সিদ্দিকুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেছেন।