বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
বরিশাল:
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় হামলার ঘটনায় দুটি মামলার পর গ্রেপ্তার-আতঙ্কে ভুগছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আছেন আতঙ্কে।সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অবস্থানের বিষয়ে কোনো তথ্য মিলছে না।একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও তার অবস্থানের বিষয়ে কিছু বলছেন না।উপজেলা পরিষদ চত্বরে বুধবার রাতে শোক দিবসের ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে ইউএনওর বাসভবনে হামলা হয়।এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর আনসার সদস্যদের গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষ হয় পুলিশের সঙ্গেও।এতে মেয়র ও প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনসহ ৩০ জন আহত হন, যদিও আওয়ামী লীগের দাবি, আহতের সংখ্যা ৭০।এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ইউএনও মুনিবুর রহমানের করা দুই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মেয়রকে। মামলার মোট আসামি ৬০২ জন, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।দুই মামলার গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আছেন সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু এবং বরিশাল জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু।গ্রেপ্তার এড়াতে বরিশাল ছেড়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী। বরিশাল নদীবন্দর ও বাস টার্মিনালে শুক্রবার রাতে ভিড় ছিল তাদের।জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম বলেন, ‘আমরা হামলার শিকার হয়েছি, অথচ আমাদেরই তাড়া করছে পুলিশ।এটা কেমন নিয়ম? আমাদের ওপর গুলি ছুড়ল, লাঠিপেটা করল, এখন আবার আমাদের গ্রেপ্তার করতেই বাসায় বাসায় অভিযান চালাচ্ছে, মামলার আসামি করা হয়েছে।‘সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশালকে যেভাবে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা যাতে না হতে পারে সে জন্য এত বড় ষড়যন্ত্র।’আসামিদের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নামও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা ছাত্রলীগের আরেক সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত জানান, সংগঠনটির সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন কয়েক মাস আগে মারা গেছেন।‘মৃত’ সাদ্দামকে খুঁজতে শুক্রবার রাতে নগরীর নথুল্লাবাদে তার বাসাতেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক একটি মামলা করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এমনকি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার-আতঙ্কে রাখা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের আসামি করা হয়েছে।’সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক দাবি করছেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। অথচ তিনিও মামলার আসামি। অপরাধ না করেও তারা গ্রেপ্তারের ভয়ে দিন পার করছেন।সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. সোহাগ বলেন, ‘আমরা নগরীতে কোনো কাজ করতে পারছি না। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে ময়লা-আবর্জনা নিতে পারছি না। এই মামলা প্রত্যাহার করলে আমরা নিশ্চিন্তে কাজে ফিরতে পারব।’এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মহানগর পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘দুটি মামলায় যারা আসামি, তাদেরই গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে।’