শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাবুগঞ্জে রাতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল নিয়ে হাজির ইউএনও বাবুগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের বাবুগঞ্জে জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত আমরা প্রতিশোধ মূলক কোনো কাজ করব না-জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদর্শনীর বীজ ও উপকরণ বিতরণ বরিশালে এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান: মানহীন মিষ্টি–আইসক্রিম কারখানায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা বাকেরগঞ্জে অসহায়-হতদরিদ্র পরিবার উপহার পেল ’স্বপ্নকুঞ্জ’ বাবুগঞ্জে বেপরোয়া কিশোরগ্যাং: কলেজ ছাত্রকে মারধরের পর ফেসবুকে পোস্ট বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উৎসাহ—জনসমর্থনে এগিয়ে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জ এলজিইডি’র এলসিএস কমিউনিটি অর্গানাইজার সানজিদার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ
রায়পাশা-কড়াপুর ইউপির মিন্টু বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী মিন্টু আটক, জনমনে স্বস্তি 

রায়পাশা-কড়াপুর ইউপির মিন্টু বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী মিন্টু আটক, জনমনে স্বস্তি 

রায়পাশা-কড়াপুর ইউপির মিন্টু বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী মিন্টু আটক, জনমনে স্বস্তি 
রায়পাশা-কড়াপুর ইউপির মিন্টু বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী মিন্টু আটক, জনমনে স্বস্তি 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সেই আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান মিন্টু সিআইডি পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ৫ অক্টোবর সন্ধা ৬টায় কৃষক ছালাম মল্লিক হত্যা মামলায় বৌসের হাট বাজার থেকে আটক করে তাকে। ২০২০ সালের ১২জুন কৃৃষক ছালাম মল্লিককে হত্যা করা হয়। তখোন থেকেই মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ধামকী দেয় মিন্টু । মিন্টুর আটকের পরেও সন্ত্রাসী মিন্টুর মাদক ব্যবসায়ী ছেলে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এতে মামলার বাদীর পরিবার নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে।কে এই সন্ত্রাসী মিন্টু? রায়পাশা কড়াপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মিন্টু  একের পর এক নিরীহ মানুষদেরকে  হয়রানি, চাঁদাবাজি হত্যাকাণ্ড সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল মিন্টু বাহিনীর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান মিন্টু। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন যেন সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে চলছিলো মিন্টু। তার হাতে গড়া সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হাবিবুর রহমান মিন্টুর সেল্টারে এলাকায় মাদক আর সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হয়।  অসংখ্য মামলার আসামি হাবিবুর রহমান মিন্টু এতটাই বেপরোয়া ছিলো যে ভয়ে স্থানীয় কোন মানুষ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস টুকুও পর্যন্ত পায়নি।  মিন্টু বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে হতে হতো অযথা হামলা-মামলার শিকার। এই হাবিবুর রহমান মিন্টু বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের উত্তর কড়াপুর গ্রামের মৃত মোতাহার আলী হাওলাদারের ছেলে। হাবিবুর রহমান মিন্টুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে ওঠেছে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে। ওই গ্রুপের গ্রুপ প্রধানের দায়িত্ব পান শীর্ষ সন্ত্রাসী  মিন্টু। হাবিবুর রহমান মিন্টুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্রুপ সদস্যদের কাজই হচ্ছে এলাকার নিরীহ মানুষদের হয়রানি, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি ও অন্যের সম্পত্তি অবৈধভাবে জবর দখল করা। এ সমস্ত অপকর্ম করতে গিয়ে মিন্টুসহ তার বাহিনীর একাধিক সদস্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনের হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে আছে। কিন্তু দেখা গেছে বারবারই মিন্টু বাহিনীর সদস্যরা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে জেলহাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও পুনরায় তাদের রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। বাহিনীর প্রধান এই মিন্টুর নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকালে বরিশাল এয়ারপোর্ট  থানাধীন রায়পাশা কড়াপুর ইউপির মৃত আমজেদ আলী সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরদারকে বসতভিটা ছাড়া করে তার সম্পত্তি জবর দখল করার জন্য মিন্টু সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে রফিকুল ইসলামের বসতঘরে লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামী মিন্টু বাহিনীর প্রধান হাবিবুর রহমান মিন্টু ও ঘটনার সাথে জড়িত  তার অন্যান্য ক্যাডারদের আটক করে। ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাবিবুর রহমান মিন্টুর বিরুদ্ধে প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল ও কাগজপত্র তৈরিকারী হিসাবে অভিযোগ এনে কড়াপুর বৌসেরহাট এলাকার নুর হোসেন হাওলাদারের  স্ত্রী সাজেদা বেগম বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর কেস নং ২৪০ মামলা দায়ের করে। মিন্টুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কড়াপুরের ছাইদুল ইসলাম ছালেক নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা করলে ২০১৯ সালের ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে নগরীর বটতলা বাজার এলাকায়   জনসম্মুক্ষে ছাইদুল ইসলামকে মিন্টু তার ক্যাডারদের  নিয়ে ১৪ মার্চের মধ্যে মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেয়। এতে সাইদুল ইসলাম ৃউপায়ন্তর না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করে। জিডির আলোকে থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে মিন্টু ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। র্্যাবের  ক্রসফায়ারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী ট্যারা শাহজাহানের অন্যতম সহযোগী এই সন্ত্রাসী মিন্টু মেম্বারের অত্যাচার-নির্যাতন চাঁদাবাজি মামলা, হামলা, ভূমিদস্যুতা সহ নানা অপকর্মের ফিরিস্তি ইতিমধ্যেই স্থানীয় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময় অবহিত করেছেন।  গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যার পরে সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান মিন্টুর নির্দেশে উত্তর কড়াপুর বৌসেরহাটের কৃষক ছালাম মল্লিককে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে  পিটিয়ে, বিভিন্ন কৌশলে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখে। ঘটনার পরপর খবর পেয়ে ছালাম মল্লিকের ছেলে স্থানীয়দের সহায়তায় বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। কিন্তু চিকিৎসারত অবস্থায় ছালাম মল্লিককে গত ১৭ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক  মৃত ঘোষণা করেন।  এ ব্যাপারে মৃত ছালাম মল্লিকের ছেলে মোঃ ফারুক মল্লিক বাদী হয়ে- কাওছার হাওলাদার, খলিলুর রহমান রাব্বি হাসান, জলিল হাওলাদার, রহিম হাওলাদার এবং নির্দেশদাতা হিসেবে সর্বহারা ক্যাডার ও মিন্টু বাহিনীর প্রধান  হাবিবুররহমান মিন্টুকে আসামী করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।  মামলা দায়েরের পরপরই মিন্টু বাহিনীর পক্ষ থেকে বাদীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে মিন্টুর বিরুদ্ধে ।  এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সেই আতঙ্কের নাম মিন্টুর আটকের খবরে এলাকায় জনমনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে হাবিবুর রহমান মিন্টুর কঠিন শাস্তিরও দাবি জানান।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD