বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
বরিশাল :
বরিশাল নগরীর সড়ক এবং মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে সড়ক-মহাসড়ক। হামেশাই দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থ্রি-হুইলার, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন ও ভটভটিতে শিশু চালকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়কে। দুর্ঘটনায় নিজের প্রাণই দিচ্ছে না, ঝুঁকিতে ফেলছে অন্যদেরও। তবে এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই ট্রাফিক বিভাগ বা বিআরটিএ’র। অভিযোগ উঠেছে সড়ক পরিবহন আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে না থাকায় অনিয়ম বেড়েই চলেছে। সরেজমিনে নগরীর রূপাতলী, নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাটসহ এলাকায় থ্রি-হুইলার, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে অসংখ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের। মঙ্গলবার দুপুরে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় থ্রি-হুইলারের চালকের আসনে বসা ১৫-১৬ বছরের নয়নের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমি ড্রাইভার না। লাইসেন্সও নাই। দুপুরে ওস্তাদ (চালক) ভাত খাইতে বাসায় গেছে। তখন আমি ট্রিপ মারি।’ এই এলাকায় চলাচলকারী মোটরচালিত থ্রি-হুইলারের অনেক চালকের বয়স ১৫ বছরের কম। আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে। অথচ ১৪-১৫ বছরেই পেশাদার হিসেবে চালকের আসনে বসে যাচ্ছে অনেক শিশু-কিশোর। সড়কের নিয়ম-কানুন না জানা, প্রশিক্ষণের অভাব, কম বয়সের কারণে প্রতিযোগিতার মানসিকতায় হরহামেশাই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে এসব চালক। জানা গেছে, মহানগরীর চেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের সংখ্যা বেশি মফস্বল এলাকায়। নগরীর বিভিন্ন এলাকার ভিতরের সড়কগুলোতে বাইক চালাতে দেখা গেছে অনেক স্কুল-কলেজগামী কিশোরদের। মফস্বলে ১০-১২ বছরের শিশুর হাতেও বাইক তুলে দিচ্ছেন অনেক অভিভাবক। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছে হাজারো অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক। এসব কিশোর বয়সীরা সড়কে গতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে গিয়ে প্রাণ দিচ্ছে। অন্যকে প্রাণে মারছে। গত ৩ নভেম্বর বরগুনার বেতাগীতে মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ যায় তিন কিশোরের। তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বরিশালে গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে বাইকারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সাত হাজার ১৫১টি। বাইকারদের পর সবচেয়ে বেশি এক হাজার ১৩৮ মামলা হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে। জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, প্রতিদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মামলাও দেয়া হচ্ছে। তবে প্রধান সড়কে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের সংখ্যা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরা বেশির ভাগই নগরের অলি-গলিতে যানবাহন চালানোর কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের সংখ্যাটা কমানো যাচ্ছে না। বিআরটিএ বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক মো. শাহআলম বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা ও ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। যেসব যানবাহন মালিক অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে গাড়ি চালান, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা নিয়ে পুলিশও কাজ করছে। এছাড়া নতুন যারা পেশাদার লাইসেন্স নিতে আসছেন তাদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। বিআরটিএ বরিশাল বিভাগের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘১৮ বছরের নিচে ড্রাউভিং লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়না। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।