বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
নারী–পুরুষের সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ( International women’s day 2025 )একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবদান অপরিসীম, কিন্তু এখনো অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হন। এই দিনটি নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের অধিকারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে উদযাপিত হয়। ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়, যা নারী অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি বিশেষ দিন। এটি শুধুমাত্র উদযাপনের জন্য নয়, বরং এটি নারীদের জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান।
আজ ৮ মার্চ। এ দিনটি নারীদের জন্য বিশেষ। বিশ্বে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অর্জনকে সম্মান জানাতে এই দিনটি নানাভাবে পালন করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি বিশ্বব্যপী ছুটির দিন হিসেবেও পালন করা হয়।
দিনটি লিঙ্গ সমতা, প্রজননের অধিকার, নারীদের উপর হিংসা ও নির্যাতন, নারীর সমান অধিকার ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়ে উদযাপন করা হয়। চলুন জেনে নেই দেশে নারীদের বিশেষ এই দিনটি কিভাবে পালন করা হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে এই দিনটিতে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হয়। নারীদের স্বাস্থ্য-সচেতনতা নিয়ে হয় বিভিন্ন আয়োজন। এছাড়াও অফিসে নারীদের ফুল ও উপহার দেওয়া হয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৯০৮ সালে, যখন নিউইয়র্ক শহরের প্রায় ১৫,০০০ নারী ভোটাধিকার, শ্রম অধিকার এবং বৈষম্যের অবসানের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। এটি ছিল একটি সময় যখন নারীরা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেন।
১৯০৯ সালে, নারী ক্ষমতায়ন ও সমতার লক্ষ্যে ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালিত হয়, যা সমাজতান্ত্রিক পার্টি অফ আমেরিকার উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
১৯১০ সালে, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারীদের সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেতা ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
১৯১১ সালে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রথমবারের মতো অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে পালিত হয়। ১৯ মার্চ তারিখে আয়োজিত এই দিবসে এক মিলিয়নেরও বেশি নারী ও পুরুষ র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা কর্মসংস্থান, ভোটাধিকার এবং সরকারি অফিসে কাজের অধিকারসহ বৈষম্যের অবসানের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান।
১৯১৩-১৯১৪ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, রাশিয়ার নারীরা শান্তির জন্য প্রচারণা চালান এবং ২৩শে ফেব্রুয়ারি (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ৮ মার্চ) তাঁদের প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেন। ১৯১৪ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নারীরা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি নারী সংহতির প্রতীক হিসেবে এই দিবস পালন করেন।
১৯৭৫ সালে, জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি ‘নারীর অধিকার ও আন্তর্জাতিক শান্তির দিন’ হিসেবে ঘোষণা করে।
১৯৯৬ সালে, প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবসের জন্য একটি বার্ষিক থিম নির্ধারিত হয় – “Celebrating the Past, Planning for the Future” (অতীতকে উদযাপন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা)। এরপর থেকে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন থিম নির্ধারিত হয়, যেমন ১৯৯৭ সালে “Women at the Peace Table” (শান্তি আলোচনায় নারী), ১৯৯৮ সালে “Women and Human Rights” (নারী ও মানবাধিকার), এবং ১৯৯৯ সালে “World Free of Violence Against Women” (নারী নির্যাতন মুক্ত বিশ্ব)।
২০০০ সালের দিকে, নারীবাদ ও নারী অধিকার আন্দোলন কিছুটা ম্লান হয়ে গেলেও, ধীরে ধীরে নারী অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে, নারীরা সমান অধিকার, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ এবং বৈষম্যহীন সমাজের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।