শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
স্বদেশের মাটিতে ফিরল ভারতে পাচারের শিকার ৩০ শিশু-কিশোর
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
মানব পাচারের ভয়ঙ্কর চক্রের কবল থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশের মাটিতে ফিরল ৩০ শিশু-কিশোর। বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘদিন পর পরিচিত ভূমিতে পা রেখেই কান্নায় ভেঙে পড়ে অনেকেই।
ফেরত আসাদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ৯ জন মেয়ে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। পরিবারে দারিদ্র্য ও দালালদের প্রলোভনে পড়ে তারা বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচারের শিকার হয়। কেউ গৃহকর্মী হিসেবে, আবার কেউ চাকরির আশায় সীমান্ত পেরোলেও শেষ পর্যন্ত মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি হয়ে পড়ে। পরে ভারতীয় পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর শিশু-কিশোরদের উত্তর ২৪ পরগণার ধ্রুব আশ্রম, কলকাতার সংকল্প হোম, বারাসাতের কিশলয়া শিশুহোম, জলপাইগুড়ির কোরাক হোম, নদীয়ার করিমপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ক্রিডা, ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর স্পন্সরশিপ অ্যান্ড অ্যাডপশন, নীরমল নিদয় সমিতি, লিলুয়ার এসএমএম হোম, সল্টলেকের সুকণ্যা হোম, উত্তর দিনাজপুরের কুরনর সিএনসিপি বয়েজ হোম, বহরমপুরের শিলয়ান হোমসহ বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়।
ঝিকরগাছা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন বলেন, “দীর্ঘ ভোগান্তির পর স্বদেশের মাটিতে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেল ৩০ শিশু-কিশোর।” তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার সময় বেনাপোল শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। এসময় যশোর জেলা প্রশাসন, শার্শা উপজেলা প্রশাসন, ইমিগ্রেশন পুলিশ, জেলা পুলিশ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরার পর শিশু-কিশোরদের সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এবং পরিবারের কাছে নিরাপদ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ফেরতদের মধ্যে রয়েছে—
চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, নড়াইল, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলার ৩০ জন শিশু-কিশোর। তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকাটি ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশের নথিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ফেরত আসাদের স্বজনরা সন্তানদের দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদেন, কেউ আবার হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরে পাওয়ার তীব্র আবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “দু’দেশের সহযোগিতায় এদের প্রত্যাবর্তন মানবিক উদ্যোগের বড় উদাহরণ। মানবপাচার মোকাবিলায় এ ধরনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জানা গেছে, ফেরত শিশু-কিশোরদের মধ্যে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ১০ জন, রাইটস যশোর ১২ জন এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ৮ জনকে গ্রহণ করেছে, পরবর্তীতে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলবে।