বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাবুগঞ্জে রাতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল নিয়ে হাজির ইউএনও বাবুগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের বাবুগঞ্জে জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত আমরা প্রতিশোধ মূলক কোনো কাজ করব না-জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদর্শনীর বীজ ও উপকরণ বিতরণ বরিশালে এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান: মানহীন মিষ্টি–আইসক্রিম কারখানায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা বাকেরগঞ্জে অসহায়-হতদরিদ্র পরিবার উপহার পেল ’স্বপ্নকুঞ্জ’ বাবুগঞ্জে বেপরোয়া কিশোরগ্যাং: কলেজ ছাত্রকে মারধরের পর ফেসবুকে পোস্ট বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উৎসাহ—জনসমর্থনে এগিয়ে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জ এলজিইডি’র এলসিএস কমিউনিটি অর্গানাইজার সানজিদার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ

কদর বেড়েছে তেঁতুল গাছের খাটিয়ার

রিপোর্ট আজকের বরিশাল:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কদর বেড়েছে খাটিয়ার। তেঁতুল গাছের তৈরি এ খাটিয়া ভালো দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও স্বাচছন্দে কিনে নিচ্ছেন। জানাগেছে, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহা আসলেই কদর বাড়ে খাটিয়ার। ঈদুল আজহার বাকী আর মাত্র ২ দিন। ঈদুল আজহায় পশু কোরবানী করার পরে মাংশ ছাটাই (টুকরা) করার জন্য প্রয়োজন হয় খাটিয়ার। যাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাংশ ভালোভাবে ছাটাই করা যায়। সব গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করা যায় না। খাটিয়া তৈরি করতে প্রয়োজন তেঁতুল গাছের। তেতুঁল গাছ ছাড়া অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করলে মাংশের সাথে গাছের গুড়ি উঠে মাংশের মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই ঈদুল আজহা আসলেই তেঁতুল গাছের চাহিদা বেড়ে যায়। কাঠ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে তেতুঁল গাছ সংগ্রহ করে স্ব-মিলে খন্ড খন্ড করে খাটিয়া তৈরি করে। ব্যবসায়ীরা এক সিএফটি গাছ ৩ ’শ টাকায় ক্রয় করে। এক সিএফটি গাছে ৩/৪ টি খাটিয়া তৈরি করা যায়। ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের খাটিয়া রয়েছে। একটি ছোট খাটিয়া ১’শ ৫০ টাকা থেকে ২’শ টাকা, মাঝারি ২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা এবং বড় ধরনের খাটিয়া ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কাঠ ব্যবসায়ীরা ভালোই লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে কাঠ ব্যবসায়ী ও স্ব-মিলের শ্রমিকরা এ কাটিয়া তৈরি ও বিক্রি করে থাকেন। তবে তেঁতুল গাছ পাওয়া বড়ই দুস্কর বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আমতলী পৌর শহরের বটতলা, পুরাতন বাজার, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা ও কাঠ বাজারে এ খাটিয়া বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার আমতলী পৌর শহরের বটতলা ও পুরাতন বাজার ঘুরে দেখাগেছে, কাঠ ব্যবসায়ীরা খাটিয়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে। ভালোই চলছে এবং ভালো দামে বিক্রি করছেন তারা। কাউনিয়ার মোঃ হাসান বলেন, বর্তমানে খাটিয়ার চাহিদা অনেক। বেশী চাহিদা থাকায় দামও একটু বেশী। মাঝারি ধরনের একটি খাটিয়া ২’শ ৭৫ টাকার ক্রয় করেছি। ক্রেতা জাহিদ খাঁন বলেন, একটি তেতুঁল গাছের খাটিয়া ৩’শ টাকায় ক্রয় করেছি। দাম একটু বেশী হলেও চাহিতা মত পেয়েছি। খাটিয়া ব্যবসায়ী কবির হাওলাদার বলেন, কোরবানী এলেই খাটিয়ার কদর ও চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর এ খাটিয়ার তেমন চাহিদা থাকে না। কোরবানী উপলক্ষে তেঁতুল গাছের ৬০ টি খাটিয়া তৈরি করেছি। ইতিমধ্যে ১৫ টি খাটিয়া বিক্রি হয়েছে। প্রকার ভেদে প্রত্যেক খাটিয়া ১’শ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫’শ টাকায় বিক্রি করছি। আশাকরি ভালোই লাভবান হওয়া যাবে। স্ব-মিল শ্রমিক শাহ আলম হাওলাদার, জুয়েল হাওলাদার, ইসমাইল সিকদার, শাহীন ও লোকমান বলেন, এক সিএফটি তেঁতুল গাছ কিনতে লাগে ৩’শ টাকা। ওই এক সিএফটি গাছে চারটি খাটিয়া হয়। চারটি খাটিয়া কম হলেও ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা বিক্রি করা যায়। এতে ভালোই লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু কোরবানী শেষ হয়ে গেলে এ খাটিয়ার আর কদর থাকে না। সারা বছরে দু’চারটি বিক্রি হলেও পারে আর না হলেও পারে। তারা আরো বলেন, তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। বশিালের কশাই সালাম বলেন, মাংশ ছাটাইয়ের (টুকরা) জন্য খাটিয়ার ব্যবহার দীর্ঘ দিনের। খাটিয়া ছাড়া ভালোভাবে মাংশ ছাটাই করা যায় না। তিনি আরো বলেন, সব গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি হয় না। মাংশটা ভালোভাবে ছাটাই করার জন্য প্রয়োজন তেঁতুল গাছের খাটিয়ার। অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করলে মাংশের সাথে খাটিয়ার গুড়ি উঠে আসে। এতে ওই গাছের গুড়ি মাংশের সাথে লেগে মাংশের মান নষ্ট হয়ে যায়। আর তেঁতুল গাছের খাটিয়ার মাংশ ছাটাইয়ে কোন গাছের গুড়ি উঠে না। এতে মাংশ ভালো থাকে। তাই তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর বেশী।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD