শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানা এলাকায ২০০৭ সালে শাশুড়ির সঙ্গে রাগ করে নিজ ছেলেকে হত্যার দায়ে করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছিলেন জসিম রাড়ী। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে জসিমের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।এখন এই আসামির সাজা খাটা ১০ বছর শেষ হয়ে থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকলে তাকে কারামুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে, এরই মধ্যে এই আসামির মোট ১৪ বছর তার সাজা খাটা হয়ে গেছে বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রায়ের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জসিম রাড়ীকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যেহেতু তিনি ২০০৭ সাল থেকে জেলে আছেন তাই তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকলে ১০ বছর এরই মধ্যে পেরিয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দিতে বলেছেন আদালত। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জসিম রাড়ী ২০০৭ সালের ১ এপ্রিল শাশুড়ির সঙ্গে রাগ করে নিজ সন্তানকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরের দিন ২ এপ্রিল স্ত্রী ফাতেমা বেগম তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বিচারিক আদালত সন্তান হত্যার দায়ে বাবা জসিমকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই রায় ঘোষণা করেন। এরপর হাইকোর্টও তার সেই সাজা বহাল রেখে ২০১৩ সালের রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ আপিল দায়ের করলে আপিল বিভাগ সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিলেন। এখন আর কোনো মামলা না থাকলে তার মুক্তিতে বাধা নেই।