শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
বরিশাল॥ বরিশাল বিভাগে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশেষ আঞ্চলিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। লকডাউন কার্যকর, আক্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে আইসোলেশনে রাখা, সকলকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করা এবং করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করে এ পদ্ধতি কার্যকর করবে বিভাগীয় প্রশাসন। আর নতুন এ পদ্ধতির নাম হবে ‘বরিশাল মডেল’।শনিবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নতুন এই আঞ্চলিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল। পরবর্তীতে রাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, শনিবার সকালে দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের এক অনলাইন সভায় এ ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে সংক্রমণ রুখতে ‘বরিশাল মডেল’ নামে আঞ্চলিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা হয়। এই ব্যবস্থা বরিশাল বিভাগের সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রহণ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে ভাবছি আমরা। এই কর্মকর্তা জানান, ‘বরিশাল মডেল’ অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি ১০ টি বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। সরকারি বিভাগের প্রতিনিধিদের মধ্যে থাকবেন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা প্রদানকারী, সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী প্রমুখ। এই দলের সদস্যরা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষদের মাস্ক পরায় উৎসাহিত করবেন, লকডাউনে বাড়ির বাইরে না যেতে নির্দেশনা দেবেন, কোন বাড়িতে কারো করোনা রোগের লক্ষণ থাকলে প্রশাসনকে জানাবেন। এই দলের সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী করোনা উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে আইসোলেশনে নেয়া হবে। এছাড়া কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হন তবে তাকে যথাযথ চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবে স্থানীয় হাসপাতাল। এ ব্যাপারে বিভাগের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে করোনা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম করা হবে। এছাড়া বর্তমানে বিভাগের একমাত্র করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রোগীর চাপ কমাতেও কার্যকর করা হবে ‘বরিশাল মডেল’। এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বলেন, আমরা একটা জরিপে দেখেছি শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীকে জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এজন্য জেলা উপজেলা গুলোর সরকারি হাসপাতালে আলাদা করোনা ইউনিট করা হতে পারে ‘বরিশাল মডেল’ এর আওতায়। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি চাপাইনবয়াবগঞ্জে করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় মানুষদের নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরণের কার্যক্রম শুরু করে সেখানকার প্রশাসন। এতে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয় সেখানকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আমরা আঞ্চলিকভাবে বরিশালেও যদি এ ধরণের উদ্যোগ নেই তবে করোনা সংক্রমণ রোধ সহজ হবে।