কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
সমুদ্রে ৬৫ দিনের অবরোধের শেষদিকে এসে পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্যবন্দরে ২২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলা মৎস্য অফিস অভিযান চালিয়ে দুটি মাছধরা ট্রলার জব্দ করে। ট্রলার মালিক ও আড়তদার আবুল হোসেন কাজীকে নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ শিকারের দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা। মৎস্য অফিসের গভীর রাতে কাউকে না জানিয়ে তড়িগড়ি করে জরিমানা ও মাছ নিলাম অভিযানকে নাটকীয় অভিযান বলে দাবী বন্দর ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেরই। আলীপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ীদের সুত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ১৫দিন আগেই শত শত মাছ ধরা ট্রলার সমুদ্রে মাছ শিকারে নেমেছে। প্রকাশ্যে আড়দে মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন যোগে বাজারজাতও হচ্ছে। বরফকল গুলো বরফ উৎপাদন করছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এমন অবৈধ কর্মযজ্ঞ চলে আসছে প্রকাশ্যে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার ঠিক ১দিন আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা অভিযানো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এসময় জব্দকৃত মাছ ৬ হাজার নয়শত টাকা নিলামে বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবী, জব্দকৃত ট্রলারে ৫ হাজারেরও বেশি ইলিশ মজুদ ছিল। তা জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি। কুয়াকাটা- আলীপুর মৎস্য আড়তদার ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে অনেক আড়দেই ইলিশ বেচা কেনাসহ প্রকাশেই বাজারজাত হচ্ছে। বরফকলগুলোতে বরফ উৎপান চলছে। যা প্রশাসন, সাংবাদিক সকলেই অবগত রয়েছে। মৎস্যবিভাগ তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র দুথটি ট্রলারে অভিযান চালানো এটা নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলীপুর বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, ওই রাতে অনেক ট্রলারই ঘঁাটে এসে মাছ বেচাকেনা করেছে। তারা আরও জানান,আলীপুর-মহিপুর বন্দরের কয়েকশত মাছধরা ট্রলার ১৫দিন আগে থেকেই সমুদ্রে মাছ শিকার করছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতার মাধ্যমেই এসব হচ্ছে এ বন্দরে। এসব অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধতা দিতেই অবরোধ শেষ হবার ১দিন আগে মৎস্যবিভাগের এমন অভিযানকে নাটকীয় অভিযান ছাড়া কিছুই নয় বলে তাদের দাবী। কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে মৎস্যবন্দরে আসার পর এলমা আক্তার-২ এর মালিক আবুল হোসেন কাজীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় তার ট্রলারে প্রায় ৭০ কেজি ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। অপর একটি পরিত্যাক্ত ট্রলারে প্রায় ৫০কেজি মাছ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাছ নিলামে ৬ হাজার নয়শ টাকায় বিক্রি করে সরকরি কোষাগারে জমা দেয় হয়েছে। অন্য কোন ট্রলারের খবর তাদের জানা নেই বলে এই কর্মকর্তা জানান।