“পর ক্ষতি আপন নাশ” কর্মদোষে নিয়ামতির অপরাধ জগতের ভগবান বিমল চন্দ্র সাহা গংদের শ্রীঘরে এখন বসবাস । জেলা প্রশাসক, ডিআইজি, এসপি অ্যাডিশনাল এসপি তাহারা নাকি বিমল চন্দ্র সাহার প্রতিদিনের রুটিন ওয়াকার আর ওসি সাহেব নাকি তাহার হুকুম তালিমকারী-!!! বিমল চন্দ্র সাহার শরণাপন্ন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ গুলোকে ঐ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ফোনালাপের কথা শোনাতেন তাহার প্রতি শতভাগ নিয়ামতির ভগবান হিসেবে ভক্তি বিশ্বাস আনার জন্য ।নিজগৃহে বিপদগ্রস্ত দায় ঠেকা মানুষগুলোর জন্য অপরাধের ঠাকুর ঘর বানিয়ে ভারে বসে দয়াল দাস এর উত্তরসূরী বিমান চন্দ্র সাহার অভিনব পন্থায় চাঁদাবাজি স্বর্গরাজ্য গড়েন তুলেন । ইহাকে চাঁদা বলিয়া অসম্মান করা তাহার পছন্দ নয় । এ যেন নতশিরে ঠাকুর ঘরে পদধূলি নিয়ে ঠাকুরের নজরানা হিসেবে স্বেচ্ছায় মোটা অংকের অর্থ বিসর্জন দিতে হত বিপদগ্রস্ত সংকটে পড়া মানুষগুলো নিয়ামতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু বিমল চন্দ্র সাহা কে ।এই বিমল চন্দ্র সাহার রয়েছে তাহার একদল প্রশিক্ষিত চাঁদাবাজ চক্র । মূল হোতা সহ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ে জনপ্রতিনিধি ব্যবসায়ী অকর্মার ঢেঁকি কিছু ধান্দাবাজ । নিয়ামতি বাজার সংলগ্ন এক ব্যবসায়ীর সর্ব সম্পদ ভাঙচুর লুটপাট করে ক্ষান্ত না হয়ে ৫-লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় অপরাধ প্রাথমিকপর্যায়ে প্রমাণিত হলে বিজ্ঞ আদালত ১৪-জনকে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেন ।গতকাল সোমবার আসামীরা বরিশাল জেলা আদালতে চাঁদাবাজি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে চাঁদাবাজি মামলার মূল হোতাসহ তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।মামলা সূত্রে জানাজায়, নিয়ামতি বন্দরে বাদী মোঃ শাহজাহান মৃধা (৬২) পিতা মৃত্যু সেকান্দর আলী মৃধা, সাং কান্দবপুর, থানা নলছিটি জেলা ঝালকাঠি, এ/পি সাং নিয়ামতি, তিনি উক্ত বন্দরে সম্পত্তি ক্রয় করে ১৭ বছর ধরে দোকানপাট ও বসতবাড়ী নির্মাণ করে থাকছেন । গত ০৭/১১/২০২০ ইং সালে রোজ শনিবার আনুমানিক দুপুর ১ঃ০০ ঘটিকায় বিবাদী মোঃ শাহজাহান মৃধা (৬২) এর কাছে ৫ লক্ষ্য টাকা চাঁদা দাবী করেন। তিনি দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা তার দোকানপাট, বাসাবাড়ি, ভাংচুর ও লুটপাট করেলে উক্ত ঘটনার বিবৃতি দিয়ে বিবাদী মোঃ শাহজাহান মৃধা (৬২) ১৫ জনের নামে বরিশাল কোর্টে মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নাম্বার- সিআর ৪০৪,
উল্লেখ্য, বাবু বিমল চন্দ্র সাহা, পেশায় শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে এসে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্মিলিত পরিষদের কো-সভাপতি পদ পদবীর নাম ভাঙ্গিয়ে ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান পরিচয়ে শুরু করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব ।প্রথমে তাহার প্রতিষ্ঠাতা চাঁদাবাজ একতা সংঘ জমি দখল করাতেন । পরবর্তীতে বিষয়টি জটলা ভেঙে দেওয়ার নাম করে সালিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতেন । মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রতারণা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনাকে নিয়মিত কারবার বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি । কোনভাবেই তাহাকে দাবিয়ে রাখা যাচ্ছিল না । অতিস্ট হয়ে পড়েছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নবাসীও। সবাই ভেবেছিলেন তাহার বুঝি পতন নেই! তবে অবশেষে থেমেছে তার দৌরাত্ম্য।
জমি দখলের অভিযোগে দুই বছর আদালতকে তোয়াক্কা না করার পর গতকাল জামিন নিতে গিয়ে শ্রীঘরে ঢুকতে হয়েছে তাহাকে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। পেশাদার ঐসকল চাঁদাবাজদের জেলহাজতে প্রেরণের খুশির খবরে নিয়ামতি বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।বাবু বিমল চন্দ্র সাহা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ বারের সাধারণ সম্পাদক।অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহারের আগে তার কোন পরিচয় ছিলো না। বাড়িতে ছিলো একটি মাত্র ঘর। তবে দলে পদ পেয়ে দিন বদলে যায় তার। কোনদিন কোন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিও হতে পারেননি। তবে অনৈতিক উপায়ে হাতিয়েছেন বহু সম্পত্তি। এভাবে ভারতে করেছেন দুইটি বাড়ি। ছেলেকেও যুক্ত করেছেন মাদক ব্যবসায়। অবৈধ সম্পদ মেয়েকে দিয়ে পাচার করিয়েছেন আমেরিকায়।স্থানীয়রা জানান, বিমলের মূল ব্যবসা ছিলো অহেতুক মামলায় এলাকার সব বয়সী ছেলেদের ফাঁসিয়ে দেয়া। পরে তাদের পরিবারকে ডেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ানো। গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব বাহিনী। তাদেরকে দিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে উঠতি নেতাদের হাতে রাখতেন বিমল। বিচারের নামে পক্ষপাতিত্ব ও মন্দিরের নামে অর্থ হাতানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এর জেরে কয়েক বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন চাঁদাবাজ বিমল চন্দ্র সাহা কে মেরে পা ভেঙ্গে দেয় । অভিযোগ রয়েছে যে , স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের কর্ণধারদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব প্রভাব বিস্তার করেন চাঁদাবাজি করতেন বাবু বিমল চন্দ্র সাহা।
ঘটনা সুত্রে আরো জানা যায় যে, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে নদীর চর দখল, সরকারি জমি দখল এসবই ছিল বিমল সাহার নিয়মিত কর্মকাণ্ড। সম্প্রতি নিয়ামতী বাজারে একটি জমি দখল করে ঘর ভেঙ্গে দেয় সে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও দুই বছর ধরে আসামি বিমল চন্দ্র সাহা গং আদালতকে তোয়াক্কা করেনি। তবে ইউপি চেয়ারম্যানSet নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার বরিশালের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলামুক্ত হতে গেলে ১৩ সঙ্গীসহ শ্রীঘরে প্রেরণ করেন ।