বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
তাপস মাহমুদ বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় অপচিকিৎসার শিকার হয়ে নয়মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ছয়জনকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক,বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়। সোমবার ‘নাগরিক অধিকার’ নামের একটি স্বেচ্ছসেবি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনজীবী হাসান তারিক পলাশ ওই ছয়জনকে ‘লিগ্যাল নোটিশ’ পাঠান। নোটিশে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমগ্র বরগুনা জেলায় তদন্ত করে অনিবন্ধিত চিকিৎসকদের খুঁজে বের করা, তাদের তালিকা তৈরি করে সিভিল সার্জন অফিসের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা এই তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বরগুনা ফার্মেসি পট্টিতে অবস্থিত চাইল্ড কেয়ার সেন্টার নামের একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কথিত চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ নামের জনৈক ব্যক্তির অপচিকিৎসার শিকার হয়ে ইয়ামিন নামের নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। এছাড়াও গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ সালে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ বরগুনায় ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি, মামলা’ প্রতিবেদনটির আলোকে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, বরগুনা জেলার ছয়টি উপজেলায় দুই শতাধিক ভুয়া চিকিৎসক রয়েছেন, যারা ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টার (রোগ নির্নয় কেন্দ্র) ও ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। ওই সময়ের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইউনুস আলী জানান, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দুই শতাধিক ভুয়া চিকিৎসক সনাক্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্ত পরবর্তিতে এ বিষয়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ভুয়া চিকিৎসকেরা
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়াই স্বাস্থ্য সেবার নামের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২২ ধারার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেনা। কিন্ত আইন ভঙ্গ করে বরগুনায় চিকিতসক পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া চিকিৎসকরা চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও গত ৬ সেপ্টেম্বর আইনজীবী হাসান তারিক পটুয়াখালীর চক্ষু চিকিৎসক খালেদ মতিনকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
এনে মহসিনা ইয়াসমিন সুমা নামের এক নারীর পক্ষে আইনগত নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমগ্র বরগুনা জেলায় তদন্ত করে অনিবন্ধিত চিকিৎসকদের খুঁজে বের করা, তাদের তালিকা তৈরি করে সিভিল সার্জন অফিসের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা এই তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে নাগরিক অধিকারের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরক বাংলাদেশ সুপ্রীম আইনজীবী হাসান তারিক (পলাশ) বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার আমাদের অন্যতম সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। এদের কারনে নাগরিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রানহানির মত ঘটনা ঘটছে। আমাদের দাবি, সকল অনিবন্ধিত চিকিসকদের চিকিৎসার নামে ব্যবসা বন্ধ করতে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, সম্প্রতি শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর আমরা ভুয়া চিকিৎসকদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও আমরা এদের ব্যাপারে বিধিমোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ভুয়া চিকিৎসকদের ব্যাপারে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায়, তাদের সাথে নিয়ে আমরা দ্রত ভুয়া চিকিৎসক সনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।