বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ জনে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা গাজায় স্থল হামলার হুমকি দিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো এই হামলায় দক্ষিণের খান ইউনিসে অন্তত ৭৭ জন এবং গাজার উত্তর অংশে ২০ জন নিহত হয়েছেন। বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আক্রমণ যতদিন প্রয়োজন, ততদিন চলবে এবং এটি শুধু বিমান হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থল অভিযানও চালানো হতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে।
অন্যদিকে, হামাস ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নেতানিয়াহু এবং তার উগ্রপন্থি সরকার পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। হামাস আরও বলেছে, ইসরায়েল গাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর “বিশ্বাসঘাতক হামলা” চালাচ্ছে এবং বন্দিদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করে।
হামাস জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আরব লীগ এবং ওআইসি’র (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন গাজা উপত্যকার উপর আরোপিত অবরোধ ভাঙতে এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।